জুয়াড়ী আটক করে বিপাকে মোংলা নৌ পুলিশ
মোংলার চিলা ইউনিয়নে স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে চলা জুয়ার আসর থেকে জুয়াড়ী আটক করে উল্টো বিপাকে পড়ছে পুলিশ। প্রভাবশালীরা দলীয় পদ-পদবী আর কৌশল ব্যবহার করে প্রশাসনের কর্তব্য পালনে বাঁধাগ্রস্থ করছে। শুধুমাত্র এই চক্রের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের গাববুরিয়া, গিলার খাল কুলসহ বিভিন্ন জায়গাতে প্রতিদিন চলে জমজমাট জুয়ার আসর। ওই প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জুয়াড়ীদের সাথে সুন্দরবন ধ্বংসের চক্ররা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ, টোকেন বানিজ্যসহ নানা অভিযোগ এনে মানববন্ধন পালন করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই এলাকায় প্রভাবশালীদের কাছে পুলিশ জিম্মি। নিরাপত্তাহীনতায় আমরা সাধারণ মানুষ ও সুন্দরবন।
দেশব্যাপি চলা জুয়া আর মদ বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৪ আক্টোবর মোংলার জয়মনি খাদ্য গুদামের পার্শ্বে সিরাজ আকনের বাড়ীতে জুয়ার আসরে অভিযান চালায় নৌ পুলিশ। এ সময় চিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেনের ভাইপো ও এলাকার প্রভাবশালী জহুর গাজীর ভগ্নিপতিসহ ৯ জনকে আটক করে পুলিশ।
নৌ পুলিশের ওসি আবুল হোসেন শরীফ জানান, আটক করার পরদিন ১৫ আক্টোবর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেনে আসামীদের ছেড়ে দেয়ার সুপারিশ করেন। কিন্তু তার সুপারিশ না মেনে আসামেিদর আদালতে প্রেরণ করা হয়। আর এতেই তিনি (ওসি আবুল হোসেন) পড়েছেন বিপাকে। ক্ষুব্দ হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন তার (ওসি) বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর চিলা ইউনিয়নে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন পালন করেন চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন ও ইউপি সদস্য আবদুল হালিমসহ প্রভাবশালীরা।
এ বিষয়ে জানতে ০১৯০৫৪৩৬৫৭নং মুঠোফোনে ওসির আবুল হোসেন শরীফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেশ কয়েকটি জুয়ার আসর বসে চিলা ইউনিয়নে। এসব বন্ধ করতে গিয়ে তিনি প্রভাবশালীদের আক্রোশের কবলে পড়েছেন। একই সাথে তিনি দাবি করেন, কিছু ভুয়া কার্ড বানিয়ে সুন্দরবনের দু:স্কৃতিকারীদের দিয়ে গাজী আকবর হোসেন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ অবস্থায় তিনি (ওসি) খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক ও উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের হস্তক্ষেপ চান।
তবে মোংলা চিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন বলেন, নৌ পুলিশের ওসি আবুল হোসেন শরীফ জুয়ার আসরের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একই সাথে স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে নিয়মিত টোকন দিয়ে টাকা আদায় করতেন। তাই ওসি’র ২৪ ঘন্টার মধ্যে বদলী দাবী করে মানববন্ধন করেছেন।
এদিকে, চিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রাসেল অভিযোগ করেন, বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন আওয়ামী লীগের দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে নানা অনিয়ম করে চলেছেন। তার আত্মীয় স্বজনরা নানা অপকর্ম করে চলছেন। আর ওইসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করেন গাজী আকবর হোসেন। অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করা সর্তে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন হওয়ায় চেয়ারম্যান আকবর হোসেনের স্বজনরা তার নির্দেশে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মৎস্য আহরণ, সরকারী খাল টেন্ডার নিয়ে নিয়মানুযায়ী কাজ না করা, এলাকায় জুয়ার আসর বসানোসহ অনেক অপকর্ম করে চলছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহসও পাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রশাসনের কর্মকান্ড নিয়ে রাস্তায় মানববন্ধন করলে সমাজে দুর্বৃত্তায়ন বেড়ে যায়। মুখোশদারীরা অবলীলায় তাদের অপকর্ম চালানোর সুযোগ পাবে। তাই প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে মানববন্ধনকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবী করেন তারা।
