ইন্দুরকানীতে শ্রমিক লীগের চাঁদাবাজী বন্ধ
পিরোজপুরে ইন্দুরকানীতে ইজিবাইক শ্রমিকদের বিক্ষোভে শ্রমিক লীগের চাঁদাবাজী বন্ধ হয়ে হয়ে গেছে। ইন্দুরকানী উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আ. হাকিম, সহ-সভাপতি পারভেজসহ কয়েকজন নেতা ইজিবাইক শ্রমিকদের জিম্মি করে গত ১০ বছর ধরে চাঁদা আদায় করে নিজেরা ভাগ করে নিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করে ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি জেনে আদায়কারী নেতৃবৃন্দকে চাঁদা আদায় বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু ইউএনওর নিষেধ অমান্য করে আবারও শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করলে রবিবার দুই শতাধিক ইজিবাইক শ্রমিকরা চাঁদা বন্ধের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে।
ইন্দুরকানী থানার ওসি শ্রমিকদের দাবীর সাথে একমত হয়ে তাদের বিক্ষোভ বন্ধ করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চাঁদা আদায় বন্ধ হয়ে যায়। চাঁদা আদায় বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে।
জানা গেছে, ইন্দুরকানী উপজেলার বিভিন্ন সড়কে তিন শতাধিক ইজিবাইক চালক ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে শ্রমিক লীগের কয়েকজন নেতা প্রতিটি ইজিবাইক থেকে দৈনিক ৩০ টাকা, মাসে থানায় দেয়ার নামে ১০০ টাকা এবং নতুন লাইনে ভর্তি ফি দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকা আদায় করতেন। বছরের পর বছর শ্রমিকরা চাঁদা দিয়ে আসলেও তাদের হাত থেকে কেহ রক্ষা পায়নি। প্রশাসন ছিল নিরব। অবশেষে ইউএনওর কঠোর নির্দেশে ১০ বছরের চাঁদাবাজির রাজত্বের অবসান হল। ইজিবাইক চালক জাকির হোসেন, জামাল হোসেনসহ অনেকেই জানান, শ্রমিক লীগের নেতা হাকিম, পারভেজ গ্রুপ একটি ইজিবাইক প্রতি দৈনিক ৩০ টাকা, মাসে থানার চাঁদার নামে ১০০ টাকা, এবং নতুন গাড়ী ভর্তি হলে দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকা করে দিতে হয়। অভিযুক্ত উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আ. হাকিম জানান, আমরা ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে যে টাকা নিতাম তা থানাসহ আমাদের শ্রমিক লীগের অনেকেই ভাগ দিতে হতো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ জানান, এ উপজেলায় কোন ধরণের চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না, তার যে পরিচয় থাকুক না কেন। তাই ইজিবাইক শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপরও কেউ চাঁদা আদায় করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
