প্রধান সূচি

স্বাধীনতা ও পরাধীনতার পার্থক্য অনুধাবনের সক্ষমতা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে … আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি (জেপি)’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, আমাদের দেশের মানুষ স্বাধীনতা ও পরাধীনতার পার্থক্য অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে বলেই ৪৭ বছরে তাদের ভাগ্য উন্নয়ন কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে, যা পাকিস্তান আমলে ঘটেনি রাষ্ট্রের চরিত্র পরাধীন ছিলো বলে। আজকের প্রজন্মকে রাজনৈতিক সচেতন হয়ে নিজেদেরকে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় সমৃৃদ্ধ করতে হবে। যাতে আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দিতে তারা সমর্থক হয়।
তিনি শনিবার পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানীতে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস কাম স্টোর উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে আরও বলেন, প্রত্যাশিত উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসীকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিগত ৩৪ বছর ধরে আমি এলাকায় যে কথাটি সব সময় বলে এসেছি তাহলো যেখানে ঝামেলা, মতানৈক্য, ঝগড়া-বিবাদ থাকে সেখানে সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তি থেকে শুরু করে সকল স্তরের উন্নয়ন বরাদ্দ দানের কর্তৃপক্ষ অনীহ থাকেন। উন্নয়ন চাইলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভালবাসতে হবে। চাঁদাবাজি, ডান্ডাবাজি, পেশীশক্তির দৌরাত্ম থাকলে সে এলাকার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হন। সরকারি কর্মকর্তারা আচার-আচরণে বিনয়ী-উদার হতে পারেন, কিন্তু আইন প্রয়োগে বা প্রশাসন পরিচালনায় কঠোরতা অবলম্বন করেন। এটাই তাদের উপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব। গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশের চিত্র বা ছবি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ ক্রমান্বয় উন্নয়ন চাহিদা পূরণের ধারা অনুসরণ করে অধিকতর ফল লাভ করেছে। এই হচ্ছে স্বাধীনতার প্রতিফলন। সবার মধ্যে নিজস্ব মত, দল করার অধিকার তথা রাজনৈতিক বিশ^াস ভিন্ন ভিন্ন থাকবে, কিন্তু কাজের ব্যাপারে অবশ্যই এক থাকতে হবে। রাজনীতি করলে ভবিষ্যত নেতৃত্বে আসা সহজ হয়। এ ক্ষেত্রে আমরাও বিভিন্ন পর্যায়ে ছাত্রজীবনে ও পেশাগত জীবনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা অর্জনে সফলতা পেয়েছি। আমরা মনেকরি যেখানে ঐক্য, সেখানেই শক্তি। তিনি আরও বলেন, ইন্দুরকানী অতীতে এক সময় উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলো। মানুষের ধর্ম বিশ^াস ভিত্তিক রাজনীতিতে উগ্রবাদের প্রভাব থাকায় এ পরিস্থিতি উদ্ভব ঘটেছিলো। পরকালে বেহেস্ত লাভের আশা মানুষের ধর্ম বিশ্বাস প্রসুত ধারণা, যা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু গোড়ামি বা উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ অবলম্বন করে ধর্ম বিশ^াস প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে সচেষ্ট থাকতে হবে।
ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ, পিরোজপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক রাম কৃষ্ণ দাস, ইন্দুরকানী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন প্রমুখ। এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের পিরোজপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক, ইন্দুরকানী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাগা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলরুবা মিলন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শংকর চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল শনিবার বিকেলে ইন্দুরকানী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন। তিনি উপজেলা সদরে নব নির্মিত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ভবন ও মিরা বাড়ী সম্মুখের কালাইয়া খালের উপর নব নির্মিত ত্রাণের ব্রীজের শুভ উদ্বোধন করেন। উপজেলা সদরে ইন্দুরকানী ‘উপজেলা মডেল মসজিদ’ নির্মাণ ও পত্তাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া ইন্দুরকানী পাঁকা খেয়াঘাট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, পত্তাশী ইউনিয়নের গাবগাছিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান গাজীর বাড়ীর নিকট খাল, রামচন্দ্রপুর গ্রামের গৌরঙ্গ মিস্ত্রির বাড়ীর সামনের খাল ও খেজুরতলা বাজারের পিছনের খালের উপর ত্রাণ অধিদপ্তরের পৃথকভাবে নির্মিত তিনটি ব্রীজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর একই ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে পাড়েরহাট ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে ইলিয়াস মেম্বারের বাড়ীর সামনের খাল এবং পশ্চিম নলবুনিয়া গ্রামের সোহরাব শরীফের বাড়ীর খালের উপর ত্রাণের ব্রীজ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসব স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আলাদা আলাদা ভাবে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসব দোয়া ও মোনাজাতে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন জাতীয় পার্টি-জেপি’র উপজেলা সভাপতি আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, সহ-সভাপতি ও পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার প্রমুখ।
শনিবার ইন্দুরকানীতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র সাথে সফরসঙ্গী ছিলেন ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভান্ডারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, জেপি’র ভান্ডারিয়া সদস্য সচিব ও ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ইউসুফ আলী আকন, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক প্রমুখ।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial