ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে
পাইকগাছায় কয়েক দিনের একটানা বর্ষণের পর শুক্রবার দিবাগত ভোর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ভারী বর্ষণে মৎস্য ঘের, সবজি ক্ষেত, নার্সারী, পুকুর, রাস্তা ও বসতবাড়ী তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পাইকগাছার গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়–লী উঁচু এলাকা হলেও বাকী ৭টি ইউনিয়ন নিঁচু এলাকায় অবস্থিত। সামান্য বৃষ্টি হলে এ সকল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তবে গত দিনের ভারী বর্ষণে উঁচু এলাকাও তলিয়ে গেছে।
শনিবার সকাল ৯টার পর বৃষ্টি থামলেও উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীন রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে থাকে। কয়েক’শ কাঁচা ও আঁধাপাকা ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাড়ির উঠানে পানিতে তলিয়ে থাকায় ঘর থেকে সাধারণ মানুষ বিড়াম্বনায় পড়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষরা কাজ করতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়েছে।
পাইকগাছার সদর ইউনিয়ন গদাইপুরের কয়েক’শ নার্সারী ক্ষেত পানিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেত ও বীজতলা তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় জাল দিয়ে ভেসে যাওয়া মাছ ধরতে দেখা যায়। বোয়ালিয়া ব্রীজ রোডের ফার্মের পাশে কালবার্ট ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাইকগাছা থেকে রাড়–লী ইউনিয়ন ও সাতক্ষীরা যাতায়াতের সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
গদাইপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারী বৃষ্টিতে বীজতলা ও বাড়ির উঠান পর্যন্ত তালিয়ে রয়েছে। সকালের তলিয়ে যাওয়া রাস্তা বিকেলের দিকে পানি সরে যাওয়ায় রাস্তা জেগে উঠেছে। তবে এখনো বাড়ির উঠান, সবজি ক্ষেত ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
গদাইপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন জানান, বৃষ্টিতে অনেক কাঁচা ঘর পড়ে গেছে ও উঠানে পানি জমে রয়েছে। বোয়ালিয়া রোড়ের কালবার্টটি ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীর্ঘদিন পর বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েক দিনের হালকা বৃষ্টির সাথে গত শুক্রবারের ভারী বর্ষণে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই প্লাবিত এলাকা পানি সড়ে যাবে। এতে আমন চাষের জন্য অনেকটা উপকার হয়েছে। তাছাড়া পাট জাক দেওয়ার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় জলাশয় পূর্ণ হয়েছে। উপজেলায় এখনো আমনের বীজতলা তৈরী হচ্ছে। উঁচু এলাকার জন্য এ বৃষ্টি আমন চাষের জন্য ভাল হয়েছে। উপজেলায় এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হলেও আমন আবাদের জন্য উপকার হয়েছে।
এদিকে, পাইকগাছায় কয়েক দিনের একটানা বর্ষণের পর শুক্রবার দিবাগত ভোর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে রোপনকৃত আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে আছে। গদাইপুরসহ বিস্তির্ণ এলাকার বৃষ্টির পানি বোয়ালিয়া খামারের ছোট খাল দিয়ে নিষ্কাশন হয়। ভারী বর্ষণে একেতো খামারে ৩৭ একর রোপনকৃত চারা তলিয়ে আছে, তার উপর এলাকার পানি খামারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন রোপনকৃত ধানের চারা পানিতে ভেসে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কামাল উদ্দীন মোল্লা জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খামারের আমন ধানের চারা রোপন পুরাদমে এগিয়ে চলছিল। এ পর্যন্ত ৩৭ একর আমন ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। আরো ১১ একর জমিতে রোপন করতে বাকী রয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালের ভারী বর্ষণে পুরো খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশন হলে রোপনকৃত চারা খুববেশি ক্ষতি হবে না। তবে খামারের উপর দিয়ে পানির ¯্রােত বয়ে যাওয়ায় রোপনকৃত চারা উপড়ে পানিতে ভেসে গেছে। ভেসে যাওয়া ধানের চারার স্থলে নতুন চারা রোপন করতে হবে। তবে পানি নিষ্কাশন না হওয়া পর্যন্ত কেমন ক্ষতি হয়েছে তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। পানি সরে গেলে খামারে পরিবেশ বুঝে নতুন করে ধানের চারা রোপন করা হবে।
