ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
বাগেরহাটে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় তাপস রাণা (৩৬) নামের এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ডের নির্দেশ দেন আদালত।
রবিবার বিকেলে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এস. এম. সাইফুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন। এসময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দন্ডপ্রাপ্ত তাপস রানা চিতলমারী উপজেলার পাড়ডুমুরিয়া এলাকার সুশীল রানার ছেলে এবং ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী শিক্ষক তাপস রানা ওই ছাত্রীর বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতে আসেন। ছাত্রীর পিতা-মাতা বাড়িতে না থাকার সুযোগে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে তাপস রানা। পরে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন হলে ঐ বছরের ১৫ মে আল্ট্রাসোনোগ্রামে দেখা যায় সে গর্ভবতী। পরে ২০ মে তাপসরানা ও তার পরিবারের লোকেরা বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে যায় মেয়েটিকে। সেখানে অত্যাচার করে জোরপূর্বক গর্ভের সন্তান নষ্ট করে মেয়েটিকে তাড়িয়ে দেয়। পরে ১৫ জুন মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।
৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলার প্রধান আসামী তাপস রানাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং অন্য তিন আসামীকে খালাস দেন আদালত। খালাস প্রাপ্তরা হলেন- শেখর রানা, দুলাল রানা ও আনন্দ রানা।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি ছিলেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর ছিদ্দিকুর রহমান খান। আসামী পক্ষে ছিলেন শেখ মো. শরীফুল ইসলাম ঠান্ডু।
