ইন্দুরকানীর ৫ জয়িতার গল্প
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে জয়িতা নির্বাচিত করেন ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব আহমেদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরে জান্নাত ফেরদৌসি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার পূরবী রানী দাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর একে এম আবুল খায়ের প্রমুখ।
একজন সংগ্রামী অপ্রতিরোধ্য নারীর প্রতীকী নাম জয়িতা। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের মূর্ত প্রতিক জয়িতা। কেবল নিজের অদম্য ইচ্ছাকে সম্বল করে চরম প্রতিকূলতাকে জয় করে জয়িতারা তৃর্নমূল থেকে সবার অলক্ষ্যে সমাজে নিজের জন্য জায়গা করে নিয়েছেন। সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এই জয়িতাদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগটির নাম ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’। জয়িতাদের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে, ১. অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী, ২. শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী, ৩. সফল জননী নারী, ৪. নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন যে নারী, ৫. সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখেছেন যে নারী।
পাড়েরহাট ইউনিয়নের মোসা: বেবি বেগম : নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে যে নারী ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। জীবন কোনো পোশাকি প্রদর্শন নয়। এখানে সংকট তীব্র। ঝুঁকি ছাড়া কোনো অর্জন হয় না। সফলতার কোনো সরল পথ নেই। কেউ যদি দূরদর্শী হয়, আকাঙ্খা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়, সমাধান আছে এমন ধারণা নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, তাহলে সে কাজটি পারবেই। এমনই একজন সহসী জয়িতা নারীর প্রতীক বেবি বেগম ।
পাড়েরহাট ইউনিয়নের ছালমা বেগম : দরিদ্র স্বামি মো. মিজানুর রহমানের সংসারে ছেলে মেয়ে নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যোমে কৃষি কাজ করে। গাভি পালন করে, হাঁস পালন করে এমনকি কলা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি অর্জন করেছে। অর্থের অভাবে একদিন যে দু’বেলা দু’মুঠো আহার সন্তানদের মুখে তুলে দিতে পারতোনা আজ শত বাঁধা পেড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী ।
পত্তাশী ইউনিয়নের কানন বালা : পাঁচ সন্তান নিয়ে দুঃস্বপ্নের মতো পথ চলা শুরু। তিনি নিজেও জানেন না এ পথের শেষ কোথায়। প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পড়ালেখার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। নিজের স্বপ্ন দেখেছেন সন্তানদের মধ্যে। সন্তানদের নিয়ে জীবন যুদ্ধে নেমে পড়েন। হেরে যেতে চান না জীবনের সংগ্রামে। জয়ী তাকে হতেই হবে। এটি এক সাহসী সফল জননী কানন বালার জীবনের গল্প। বিয়ে হয় অল্প বয়সে। স্বামী মনোরঞ্জন মন্ডল অভাবের সংসারে কোন রকম একবেলা খেয়ে অভাবের যন্ত্রনা সহ্য করে দিনাতিপাত করেন। তার জীবনের সব ভাবনা ছিল সন্তানদের নিয়ে। নিজের সুখের কথা একবারও ভাবেননি। সন্তানদের মধ্যেই জীবনের সমস্ত সুখের ছায়া দেখেছেন তার সে চেষ্টা বিফল হয়নি তার। সন্তারা এখন সমাজের বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে রয়েছেন।
পাড়েরহাট ইউনিয়নের আসমা বেগম : মানুষকে প্রথমে নিজের জন্য করতে হয়। আবার সবাই নিজের জন্য করলে মানুষ হিসেবে তার পরিচয় থাকে না। তাই অন্যের জন্যও করতে হয়। এমনই এক মহীয়সী নারী আসমা বেগম যিনি সারা জীবন অন্যের জন্য করেছেন। স্বামী স্বপন শিকদারের অভাবের সংসারে দিশেহারা হয়ে উঠেন এক সময়। অদম্য সাহসী আসমা বেগমকে সামনে এগিয়ে চলার পথ খুঁজতে হয়। বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্থ উপার্জন করে সন্তাদের লেখাপড়া শেখান। সাথে সাথে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের লেখা পড়ার উৎসাহ যোগান এবং সমাজে সচেতনতামূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
পত্তাশী ইউনিয়নের ইয়াসমিন নাহার : নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের অদম্য ইচ্ছা, চেষ্টা ও শ্রম দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। স্বামীর অভাবের সংসারের সাত সদস্য নিয়ে দিশেহারা ইয়াসমিন মনোবল না হারিয়ে আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউপি আনসার ও ভিডিপি দলনেত্রী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। স্বামী রিয়াজ হাওলাদারকে চা পানের দোকান দিয়ে দিয়েছেন।
