বাগেরহাটের অসহায় আল্লাদির দায়িত্ব নিলেন ইউএনও
বাগেরহাট সদর উপজেলার গাবরখালী পালপাড়া এলাকার অসহায় বৃদ্ধা আল্লাদি রানী পালের খবরটি সামাজিক গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল্লুর রহমানের নজরে আসে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই আল্লাদি রানী পালের বাড়িতে গিয়ে তার দায়িত্ব দেন ও তাকে নগদ টাকা, চাল, বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদান করেন। আল্লাদির বসাবসের জন্য দুই সপ্তাহের মধ্যে জন্য একটি ঘর করে দেওয়ার ও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ফজলে এলাহি, মাঠ পরিদর্শক সৈয়দ রওনাকুল ইসলাম, গোটাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সমশের আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল্লুর রহমান বলেন, সংবাদ মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা আল্লাদির বাড়িতে এসেছি। তাকে নগদ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা, বয়স্ক ভাতার কার্ড ও ত্রিশ কেজি চাল দিয়েছি। দুই সপ্তাহের মধ্যে তার থাকার জন্য একটি ঘর করে দেয়া হবে।
প্রতিবেশি ও এলাকাবাসি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন উদ্যোগে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, শত বছর বয়সী নারীকে সহযোগিতা করার জন্য আমরাও খুশি।
এদিকে নগদ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা, বয়স্ক ভাতার কার্ড পেয়ে ভীষন খুশি আল্লাদি। তিনি তার অভিব্যক্তিতে বলেন এখন হয়তো বাকি জীবন কিছুটা হলেও শান্তিতে থাকতে পারবো। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আল্লাদি রানী জীর্ণ শীর্ণ অনেক পুরোনো টিনের ছাপড়ার একটি ঘরে থাকেন। ঘরের কোন বারান্দা নেই। ঘরের ভেতর সামনের দিকে টালি তৈরির জন্য কিছু মাটি রাখা। একপাশে বেশ কিছু জ্বালানি কাঠ, অন্য পাশে রান্না ঘর। ঘরের মেঝে কিছু ফাকা জায়গা, রাত হলে ওই ফাকা জায়গায় পাটি বিছিয়ে মেয়ে রাধাকে নিয়ে পাটি বিছিয়ে রাত্রীযাপন করেন তিনি। মেয়ে রাধা ঘর থেকে ঝুড়িতে করে টালিগুলো এনে মায়ের সামনে রাখেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টালিগুলো ছিদ্র করেন এবং সাজিয়ে রাখেন তিনি এভাবে কাজ করে সময় কাটে মা-মেয়ের। তারপরও তিন বেলা ভাত খেতে পারেন না তারা।
