প্রধান সূচি

চন্ডিপুরে গনহত্যা দিবস পালিত

ইন্দুরকানীর পাশ^বর্তী চন্ডিপুরে ৪৮তম গনহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।  সোমবার ইন্দুরকানী উপজেলার সীমানায় বলেশ্বর নদের পশ্চিম তীরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে শহীদদের স্মৃতিতে মাল্যদান, র‌্যালী, শহীদ স্মরণে আলোচনা সভা  ও মেলা  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৭১ সালের এই দিনে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ২ কিলোমিটার দুরে বলেশ্বর নদীর তীরে হিন্দু অধ্যুষিত পুর্ব চন্ডিপুর এলাকায় পাক বাহিনী সশস্ত্র হামলা করে কবি, সাহিত্যিক, ইঞ্জিনিয়ার, নাট্যকার, শিক্ষকসহ শতাধিক লোককে গুলি করে হত্যা করে এবং ৪৬৫টি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সেই ধ্বংসযজ্ঞ আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি এলাকাবাসী। স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৮ বছর পার হলেও গণহত্যার স্থানে আজও নির্মাণ করা হয়নি কোন স্মৃতিসৌধ। স্থানীয়রা শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নিজেদের উদ্যোগে ছোট একটি শহীদ মিনার নির্মান করলেও সরকারী উদ্যোগে কোন স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়নি।

গণহত্যা দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনীল কুমার মজুমদার জানান, ১৯৭১ সালের ৬ মে সকাল ৮ টায় পিরোজপুর থেকে সশস্ত্র পাক বাহিনী পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে সাধু দেবেন্দ্র নাথ হালদার, শিক্ষক দীনেশ মজুমদার, সতীষ চন্দ্র মন্ডল, নির্মল চন্দ্র, নাট্যকার ধীরেন্দ্র নাথ, উপেন্দ্রনাথ, ইঞ্জিনিয়ার বিমল হালদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্মল রায়সহ শতাধিক হিন্দুদের গুলি করে হত্যা করে এবং এই এলাকায় হিন্দু সমাজের ৪৬৫ ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এই ধ্বংসযজ্ঞ চলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম শিল্পী জানান, গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মো. ফরিদুল ইসলাম খান জানান, ১৯৭১ সালের ৬ মে রাজাকারের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনী পিরোজপুর সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে বলেশ্বর নদের পশ্চিম তীরে হিন্দু অধ্যুষিত চন্ডিপুর গ্রামে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে শতাধিক লোককে গুলি করে হত্যা করে এবং ৪৬৫ ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। কিন্তু আজও গণহত্যা স্থানে নির্মাণ হয়নি শহীদ স্মৃতিসৌধ।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial