প্রধান সূচি

চিতলমারীতে ছাত্রী তিথির আত্মহত্যা ॥ মানববন্ধন

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরশৈলদাহ গ্রামের নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী সানজিদা আক্তার ওরফে মীম (১৪) বখাটেদের উত্যক্ততার কারণে আত্মহত্যা করেছে। প্রতিবাদে সহপাঠি শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, নীরবতা পালন ও মানববন্ধন করেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং মীমের পরিবার এই প্রতিবাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রবিবার মুক্তবাংলা চারিপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলক চন্দ্র মন্ডল জানান, উত্যক্তের বিষয়ে মীম কখনো শিক্ষকদের জানায়নি। তবে এই আত্মহত্যার প্রতিবাদ জানাই। চিতলমারীর হিজলা ইউনিয়নের চরশৈলদাহ গ্রামে তার দাদাবাড়ি। তার পিতা মো. ইউনুস আলী শেখ ঢাকায় চাকুরী করে।

সানজিদা আক্তার মীমের দাদা মোখলেচুর রহমান (৮৫) জানান, মীম তাদের কাছে থেকে লেখাপড়া করতো। নাজিরপুরের চরমাটিভাঙ্গা গ্রামের মো. ওমর শেখের শেখের বাধন শেখ তার বন্ধুদের নিয়ে মীমকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে উত্যক্ত করতো। গত ৪ এপ্রিল বাধন খুব কৌশলে মীমের মামাবাড়ি এলাকার খাদিজা আক্তারকে দিয়ে মীমকে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে দাদা বাড়ি থেকে বের করিয়ে আনে। উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের কুনিয়া এলাকায় বাধনদের কাছে মীমকে পৌঁছে দিয়ে খাদিজা চলে যায়। সেখানে পথিমধ্যে বাধন ও তার বন্ধুরা মীমের সাথে অশোভন আচরণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বখাটেদের বাঁধা দিয়ে আটকে রাখে। মীমের চাচী মালা বেগম ওই সময় কাকতালীয়ভাবে পাটগাতী হতে বাড়ি ফিরছিলেন। পথের জটলার মধ্যে তিনি মীমকে দেখতে পান। সেখান থেকে তিনি তাকে দাদা বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। বিষয়টি এলাকায় রটে যায়। পরদিন ৫ন এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে মীম দাদা বাড়ির ঘরের আড়ার সাথে ওড়না বেধে গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বলে তারা দাদা জানান।

এ বিষয়ে গত ১০ এপ্রিল বাগেরহাট আদালতে উত্যক্ত ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন সানজিদা আক্তার ওরফে মীম এর পিতা মো. ইউনুস আলী শেখ। এছাড়া ৫ এপ্রিল চিতলমারী থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial