শরণখোলায় মাটি লুট করে নেয়ার অভিযোগ
বাগেরহাটের শরণখোলায় আদালতের নিষধাজ্ঞা অমান্য করে ‘সিইআইপি’ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নির্মান কাজে নিয়োজিত একটি চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অন্যের ফসলি জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জমির মালিক দাবি করে চায়না কোম্পানীর কাছে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। মূল মালিকপক্ষ নিষেধাজ্ঞার কাগজপত্র দেখিয়ে মাটি কাটতে বাঁধা দেওয়ার পরও ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে। তিন দশমিক ৩৩ একর জমির মধ্য থেকে ইতোমধ্যে প্রায় এক একর জমির মাটি কেটে নিয়েছে। উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে চলছে এই মাটি লুট।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের মোল্লা বাড়ির পেছনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এক্সক্যাভেটর দিয়ে বিশাল এক পুকুর খনন করা হয়েছে। প্রায় এক একর জমিতে ১২ ফুট গভীর করে ওই মাটি কাটা হয়েছে। মাটি পরিবহনের জন্য ১০-১২টি ট্রলি সেখানে অবস্থান করছে। তখনও এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছিলো।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আ. কুদ্দুস খানের ছেলে মো. মেহেদী হাসান খান দোহার অভিযোগে জানান, ৯ নম্বর রায়েন্দা মৌজায় ছয়টি খতিয়ানের ১১টি দাগে তাদের ১০ দশমিক সাত একর জমি রয়েছে। ওই জমি থেকে দক্ষিণ কদমতলা এলাকার আলিমুল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা ও সরোয়ার মোল্লা গ্রুপ জমির মালিক সেজে সাড়ে তিন একর জমির মাটি চায়না কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে দেয়। এ ব্যাপারে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় বাগেরহাট আদালতের স্মরনাপন্ন হলে বিজ্ঞ আদালত গত ৭ মার্চ নালিশি জমিতে ফৌজদারী কার্যবিধি- ১৪৪ ধারা জারি করে উভয় পক্ষকে আগামী ৩০/০৪/২০১৯ তারিখ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে।
এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষের মো. সরোয়ার মোল্লা জানান, ৭৫ বছর ধরে তাদের বাপ-দাদারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছে। ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক হওয়ায় চায়না ঠিকাদারের কাছে মাটি বিক্রি করেছেন তারা। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানান, এ ব্যাপারে আদালতেই তারা জবাব দেবেন।
‘সিইআইপি’ প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলী শ্যামল দত্ত জানান, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আদালত এবং জমির মালিকের ব্যাপার। তারপরও আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।
শরণখোলা থানার ওসি দিলীপ কুমার সরকার জানান, জমি-জমার বিষয় আমরা কোনো সমাধান দিতে পারিনা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বিবাদীদের হাজির করার জন্য বলেছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা কেউ অমান্য করতে পারেন না। বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিবাদিদের হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়েছিল। সমাধান না হওয়ায় বাদী আদালতের স্মরনাপন্ন হয়েছেন।
