প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় একই মন্ডপে ১৫৭ প্রতিমা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় রাজ মন্দির নামে একটি পূজা মন্ডপে এবার ১৫৭ প্রতিমার দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়িতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সর্বাধিক প্রতিমার সমন্বয়ে এ দূর্গা পূজার আয়োজন ইতিমধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। উপকূলীয় বরিশাল অঞ্চলে সর্ববৃহৎ পূজার আয়োজন করা হয়েছে হালদার বাড়িতে এমনটাই দাবী করেছেন আয়োজকরা। আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দূর্গা পূজা শুরু। চলবে টানা পাঁচদিন। পুজা উপলক্ষে রয়েছে মেলার আয়োজন।

প্রায় এক একর জমি জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ১৫৭টি প্রতিমা। চার হাজার বছরের পুরানো  পৌরাণিক কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে এ মন্ডপে দেবদেবীর মূর্তিতে। শেষ মুহুর্তে চলছে প্রতীমার গায়ে রং তুলির শেষ আঁচর। প্রতিবছরই মন্ডপে প্রতিমার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। সেই সাথে দুর্গোৎসবে ব্যতিক্রমী পূজামন্ডপ তৈরি করে থাকে।

আগামী ১৫ অক্টোবর সোমবার ষষ্ঠী পূজা অর্থাৎ বেলগাছের নিচে বোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দূর্গার স্বর্গ থেকে মত্তলোকে আর্বিভাব ঘটবে। মঙ্গলবার নবপত্রিকা অর্থাৎ কলাবউকে মন্ডপে প্রবেশের মধ্য দিয়ে মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার মহা অষ্টমী, বৃহস্পতিবার মহানবমী পূজার মধ্য দিয়ে দেবীর আরাধনা। শুক্রবার দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্যে চার দিনব্যাপী দূর্গা উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা সদর হতে প্রায় চার কিলোমিটার দুরে কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়ির রাজদীপ মন্দির সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পূজার বিশাল প্যান্ডেল জুড়ে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটি সারিতে মূল প্যান্ডেলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতিমা। প্রতিমার কারিগররা তাদের হাতের নিপুণ ছোঁয়া আর রং তুলিতে অপরূপ সাজে প্রতিমা সাজাতে এখন মহা ব্যস্ত সময় পার করছেন। রং তুলির সাজসজ্জার কাজের পাশাপাশি অলংকার পরানো হয়েছে এসব প্রতিমার গায়। নানা বর্ণে বর্ণিল হয়ে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে এলাকা জুৃড়ে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে এখন থেকেই মানুষ প্রতিমা দর্শনে ছুটে আসছেন।

রাজ মন্দিরের পুজা মন্ডপের সব থেকে বড় আকর্ষণ হলো মন্ডপে প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মহাভারতের কাহিনী। এখানে শিবের বিবাহ, দোক্ষ যজ্ঞ, হনুমান, দশানন রাবন, রাধাকৃষ্ণ, মা-যশোদা ও শ্রী কৃষ্ণ, লক্ষ্মী নারায়নসহ কলিযুগের বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করতে চলছে নানা কারুকাজ। এর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক বিভিন্ন শিক্ষণীয় দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে নানা প্রতীকি প্রতীমার মধ্য দিয়ে। যা দেখে মুগ্ধ হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও দর্শনার্থীরা।

পূজার আগেই এই মন্দিরের প্রতিমা দেখতে আসা দর্শণার্থী গোপাল তারকদার জানান, অসম্ভব সুন্দর কারুকাজ এখানকার প্রতিমার। এর আগে এতো বড় আয়োজন বরিশাল অঞ্চলের কেউ দেখেনি।

মন্ডপের প্রতিমার কারিগর খুলনার কয়রা উপজেলার শংকর পাল জানান, গত ৪০ বছর ধরে বংশানুক্রমে প্রতীমা নির্মাণ করে আসছি। ১০জন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে দুই মাসের টানা পরিশ্রমে দেব-দেবীর ১৫৭টি প্রতিমা তৈরি করেছি। এসব প্রতিমা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

হালদার বাড়ির দুর্গাপুজা উদযাপনের প্রধান আয়োজক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শৈলেশ্বর হালদার বলেন, সাধ্যমতো আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি এ অঞ্চলে সর্ব বৃহৎ দুর্গা মন্ডপে রূপ নিয়েছে। এলাকার লোক এভাবে ধর্মীয় সংস্কৃতি উপভোগ করার সুযোগ কম পায়। আমরা সে অভাব পূরণের চেষ্টা করছি। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে নারী-পুরুষসহ সকল মানুষের দেখা মিলবে এ মন্ডপে এমনটাই আশা করছি।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সরোয়ায়ার জানান, দুর্গোৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার সব পূজামন্ডপে পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial