বিআরডিবি’র খেলাপী ঋণ আদায়ে মাইকিং
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিআরডিবির মেয়াদ উত্তীর্ণ খেলাপী ঋণ আদায়ে মাইকিং করা হয়েছে। বুধবার দিনব্যাপী বিআরডিবির মূল কর্মসূচী ইউসিসিএ লিঃ সহ চলমান বিভিন্ন প্রকল্প কর্মসূচীর মেয়াদউত্তীর্ন খেলাপী ঋণ আদায়ে উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে মাইকিং করা হয়েছে।
ইন্দুরকানী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম জাগলুল হাসান (অঃ দাঃ) বলেন, “ইন্দুরকানী উপজেলায় বিআরডিবির মূল কর্মসূচী ইউসিসিএর আওতায় ২.০০ লক্ষ, সদাবিক প্রকল্পে ৩৮.৫০ লক্ষ, পল্লী প্রগতি প্রকল্পে ৮.৪৫ লক্ষ, ১.১১ লক্ষসহ মোট ৫০ লক্ষাধিক টাকা মেয়াদউত্তীর্ণ খেলাপী ঋণ হিসেবে দীর্ঘদিন মাঠে পড়ে আছে। ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের অনুমতিক্রমে খেলাপী ঋণ আদায়ে এ কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া এ উপজেলায় খেলাপী আদায়ের জন্য বিআরডিবির আওতায় ৬৭টি সার্টিফিকেট মামলা চলমান আছে এবং আরো ২০০টি সার্টিফিকেট মামলা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে।”
বিপুল পরিমান মেয়াদ উত্তীর্ণ খেলাপীর ঋন হওয়ার কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরডিবির এক কর্মচারী জানায়, “আয় থেকে দায় প্রথা ও বিআরডিবির আদি পুরানো ঋণ বিতরণ ও আদায় নিতিমালা এবং কর্মসূচী/প্রকল্পের কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন ভাতা না থাকায় খেলাপী ঋনের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিআরডিবি ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এবং পাকিস্তানি শোষকদের চেয়ে নিষ্ঠুরতা চালায় বেতন বিহীন কর্মচারীদের উপর। পর্যাপ্ত ফান্ড নেই, কর্মচারীদের বেতন নেই ,আছে শুধু অনিয়ম আর অনিয়ম। সরকারী বিভিন্ন দপ্তর ও বিভিন্ন এনজিও’র একক ঋণ ব্যবস্থা চালু থাকা এবং সহজ শর্তের তুলনায় বিআরডিবির ঋণ ব্যবস্থায় ব্যাপক জটিলতার কারণে সমবায়ী এবং প্রকল্পের আওতায় সাধারণ মানুষ বিআরডিবি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে ষাটের দশক থেকে চলমান বাংলাদেশের এই সর্ববৃহৎ সরকারি সংস্থায় পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচন করতে গিয়ে কর্মচারীরা ঠিকমত বেতন ভাতা না পওয়ায় নিজেরাই দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জারিত হচ্ছে সে কারনেই অনেক কর্মচারী দেনার কারনে দেউলিয়া হতে বাধ্য হচ্ছে। বিআরডিবি থেকে ঋণ গ্রহন করে জটিল নিয়ম কানুনের কারনে সমবায়ী এবং সাধরণ মানুষ বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিআরডিবির অন্য এক কর্মচারী বলেন, “একজন পরিদর্শক/মাঠসহকারীরা বিতরণকৃত ঋনের আদায়কৃত ১১% সেবামূল্য থেকে ৭% বেতন ভাতা খাতে ব্যয় নির্বাহের নিয়ম আছে কিন্তু বছরের মোট বেতন ভাতা নির্বাহের জন্য যে পরিমান ঋণ বিতরণ করা প্রয়োজন ঋণ ফান্ড না থাকায় ৫০ ভাগেরও কম ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে কর্মচারীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার মানসিকতা দিন দিন হৃাস পাচ্ছে এবং খেলাপী বৃদ্ধি হচ্ছে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যুদ্ধবির্ধ্বস্ত দেশে সমবায়ীদের নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বোচ্চ অগ্রধিকারপ্রাপ্ত সফল প্রকল্প আইআরডিপি তথা দ্বি-স্তর সমবায়ের মাধ্যমে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন ও সফলতার দিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহন করার পর পরই ২০১২ সালে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষে বিআরডিবিকে আধুনিকরণে বিভিন্ন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহনের সিদ্ধান্তসহ মূল কর্মসূচীর ইউসিসিএলিঃ এর জন্য নিয়মিত আবর্তক কৃষি ঋন ফান্ড বরাদ্দ এবং কর্মচারীদের রাজস্ব করনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করলেও বিআরডিবি কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারনে ২০১৮ সালে এসেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না ফলে সরকারে ভাবমূর্তি চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
বিআরডিবিতে উপজেলা পর্যায়ে ৩ জন করে অফিসার রাজস্ব বাজেটে কর্মরত আছে, কিন্তু অন্যান্য দপ্তরের মত ৩য় বা ৪র্থ শ্রেনীর রাজস্ব বাজেটের কোন কর্মচারী নাই। মূল কর্মসূচী ইউসিসিএলিঃ এর আওতায় দেশের ৪৭৭টি উপজেলায় বিআরডিবিতে প্রায় ৩/৪ জন অফিস কর্মচারী এবং ৩ থেকে ৫ জনের অধিক পরিদর্শক কর্মরত আছে যারা বিআরডিবির এবং মূল কর্মসূচী ও এ পর্যন্ত সরকারের ১১৪টি প্রকল্প/কর্মসূচী সফলভাবে বাস্তবায়নসহ বর্তমানে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দেখা য়ায় তাদের অধিকাংশেরই ২০১৫ জাতীয় স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি এবং ১২ থেকে ১৮মাস বেতন ভাতা বকেয়া আছে।
