স্বরূপকাঠীতে প্রতিবন্ধির জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ
স্বরূপকাঠী উপজেলার আরামকাঠি গ্রামে রিনা বেগম (৪৫) নামে এক দিনমজুর মহিলার বাক শক্তি হারানো অসুস্থ স্বামীর কাছ থেকে প্রতারণাপূর্বক জমি রেজিষ্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১১ জুন তারিখে উপজেলার আউরিয়া গ্রামের দালাল ফঙ্কা বাদশা ও দুলালের সহযোগিতায় পাশ্ববর্তী আরামকাঠি গ্রামের মানিক হোসেন ওই মহিলার স্বামীকে দাতা বানিয়ে ছাপ কবলা দলিল মুলে ১০ শতাংশ জমি লিখে নেয়। ঘটনাটি জানার পর মহিলা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিসহ স্বরূপকাঠি পৌরসভায় নালিশ দিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি। পরে নিরুপায় হয়ে ওই অসহায় রিনা বেগম স্বরূপকাঠী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে মানিক হোসেন, দুলাল ও ফঙ্কা বাদশাকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহ্ নেওয়াজ স্বরূপকাঠী থানার ওসিকে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ওই অভিযুক্ত তিন জনের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা চলছে।
মহিলার অভিযোগে জানা যায়, অসহায় রিনা বেগমের স্বামী মো. আলম একজন ষ্ট্রোকের রোগী। তার স্বামী দু‘বার ষ্ট্রোক করে বর্তমানে বাক শক্তি হারিয়েছে। এমতবস্থায় তাদের সংসারের ছোট একমাত্র ছেলেসহ রিনা বেগম দিন মজুরী করে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসাসহ পরিবার চালাচ্ছেন। এ সুযোগে আরামকাঠির মানিক হোসেন, ফঙ্কা বাদশা ও দুলাল স্বরূপকাঠি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে তার স্বামীকে দাতা বানিয়ে ৩ লক্ষ টাকা মূল্যে ছাপ কবলা দলিল মুলে মানিক হোসেন নিজ নামে ১০ শতাংশ জমি লিখে নেয়। পরে রিনা বেগম বিষয়টি জেনে স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়রের কাছে সুষ্ঠ বিচার চেয়ে না পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের স্বরণাপন্ন হন।
অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে অভিযুক্ত মানিক হোসেন বলেন, ওই মহিলার স্বামী একাধিকবার তার কাছে জমি বিক্রির জন্য দারস্থ হয়েছে। পরে বাক শক্তি হারানো ওই লোকের পরিবারের কারো সাথে কোন যোগাযোগ না করে তিন লক্ষ টাকা মূল্যে ছাপ কবলা দলিলমুলে ১০ শতাংশ জমি তিনি (মানিক হোসেন) লিখে নিয়েছেন।
