প্রধান সূচি

সৌর বিদ্যুতে আলোকিত কাউখালীর গ্রামীন জনপথ

সারাদেশের মানুষ যখন বিদ্যুতের লোডশেডিং এর বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ তখন কাউখালীর গ্রামীণ জনপদ সৌর বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন আলোয় আলোকিত। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা, কচা ও কালীগঙ্গা নদীবেষ্টিত ইউনিয়নগুলোসহ অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রামগুলো এখন সৌর বিদ্যুতের আলোয় এলাকাবাসীর জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে। অনেক গ্রামের মানুষের কাছে বিদ্যুতের লাইন এখনও স্বপ্ন। তবে বিদ্যুতের সে অভাব পূরণ করে চলেছে সৌর বিদ্যুৎ। রাতের আাঁধারে গ্রামের পর গ্রাম আলোকিত করছে সৌর বিদ্যুতের আলো।

এছাড়া  উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় লাগানো হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি। দৃষ্টি নন্দন সোলার সিষ্টেম সড়ক বাতিগুলো (ষ্টিট লাইট) শোভা পাচ্ছে এলাকার গ্রামীণ সড়ক, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। রাতের বেলায় এসব সৌর সিষ্টেমের সড়ক বাতির আলোয় আলোকিত করছে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার জনপদ। আর এতে করে গ্রামগুলোতে চুরি ছিনতাইও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

কাউখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সৌর বিদ্যুতের এ সড়ক বাতি বসানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকারে কাউখালী উপজেলার গ্রামীণ সড়কেও সৌরবিদ্যুৎ আলো দিচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থানে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নিভৃত পল্লীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বিদ্যুৎ নেই এমন এলাকা সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। কাউখালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে হাজার হাজার পরিবারে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো সূত্রে জানা গেছে, সরকারী ও বেসরকারীভাবে সোলার প্যানেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌর প্যানেল স্থাপনে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। কর্মীদের খবর দিলেই তারা বাড়িতে এসে প্যানেল স্থাপন করে দেন। খরচও তুলনামূলক কম। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহজ কিস্তির সুবিধা দিয়ে সৌর প্যানেল স্থাপন করে দিচ্ছে।

রাতে বাতি জ্বালানোসহ ছোট আকারের ফ্যান, মোবাইলে চার্জ দেয়া ও টেলিভিশন চালানোর মতো সুবিধা পাওয়ায় সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। গ্রামের যে সব এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ এর সংযোগ পৌছে নি ওই এলাকাগুলোতে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সকলেই সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু করেছে। শহরাঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং চলাকালে আলোর চাহিদা  মেটাতেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে, কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বসানো হয়েছে অটো রোড ষ্ট্রীট সোলার প্যানেল লাইট।

৮ থেকে ১০টি বেসরকারি সংস্থা কাউখালী উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত গ্রামে সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারনে কাজ করছে। ২০০৩ সাল  থেকে  সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে।

বর্তমানে উপজেলার ধাবড়ী, সোনাকুর, মেঘপাল, কেশরতা, আমরাজুড়ী, ডুমজুড়ী, বেতকা,  হোগলবেতকা, হরিণধরা, বিড়ালজুড়ি, আশোয়া, বাশুরি, নাংগুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় চার  থেকে পাঁচ হাজার গ্রাহক সৌর বিদ্যুতের আওতাধীন রয়েছে।

 সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপণন কর্মকর্তারা জানান, নি¤েœ ১২ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে চাহিদা ও বিদ্যুৎ ক্ষমতা অনুযায়ী সৌরশক্তি স্থাপন করা হচ্ছে। মোট দামের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা এককালীন পরিশোধ করে বাকি টাকা ৩০  থেকে ৪০ কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ থাকায় সৌরশক্তি ব্যবস্থা গ্রাহকদের কাছে বেশ সুবিধাজনক ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠেছে। কাউখালীতে ১০ হাজারেরও অধিক পরিবার  সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিহীন প্রত্যন্ত এলাকার জনসাধারণের মধ্যে সোলার  হোম সিষ্টেম স্থাপনের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আশোয়া আমরাজুড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন গাজী বলেন, গ্রামে  বিদ্যুৎ  নেই। কবে আসবে তাও জানা নেই। তাই আমরা সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি। সৌর বিদ্যুৎ সুবিধার ফলে লোডশেডিংয়ের কোনো চিন্তা নেই। সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে টেলিভিশন এবং ফ্যানও চালানো যাচ্ছে।

কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু বলেন, বিদ্যুতের সুবিধা বঞ্চিত প্রত্যন্ত গ্রামে সৌরশক্তি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রামের মানুষ এখন সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে বাতি, ফ্যান, টিভি চালাতে পারছে। মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছে। এছাড়া সৌর বিদ্যুতে আলোকিত গ্রামগুলোতে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থারও উন্নতি হয়েছে। লোডশেডিং থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য শহর এলাকারও অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সৌর প্যানেল স্থাপন করছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial