হারিয়ে যেতে বসেছে বর্ণিল শোভন সোনালু
বেশীর ভাগ সময় সড়কের পাশেই দেখা মেলে শোভন সোনালু। ডালে ঝাড়বাতির মতো ঝুলে থাকে। উজ্জল হলদে বর্ণিল ফুলদল। বাতালে যখন দোলে দারুণ শোভন লাগে। গোছা গোছা হলদে আভার ফুলের পাশেই তার আশ্চর্য লাঠি সদৃশ ফল ঝুলে থাকে। দারুন হলদে আভার এ ফুলের পরিচিতি সোনালু। আমাদের গ্রাম দেশে সোনাইল আবার অঞ্চলভেদে এর পরিচিতি আবার বাঁদর লাঠি ও সোঁদাল নামে। এখন সোনালু ফোঁটার ভরা মৌসুম।
এক সময়ে আমাদের গাঁয়ের গৃহস্থ বাড়ি ও রাস্তার পাশে প্রচুর সোনালু গাছ দেখা যেত। এখন দেখা মেলে কম। এ গাছের কাঠ খুব একটা দরকারী বা দামি নয় বলেই সোনালু গাছ তেমন কেউ লাগান না। ফলে দৃষ্টি নন্দন সোনালু বিস্তার কমছে।
গ্রীষ্মে ঝাড়বাতির মতো ঝুলে থাকা বড় বড় থোকায় হলুদ-সোনালি রঙের এ ফুলগুলো পরিবেশে মুগ্ধতার আবহ নিয়ে আসে। বিশেষ করে সড়কের দুই পাশে তা মনোরম শোভ বর্ধন করে। উপজেলার মঠবাড়িয়ার সাপলেজা-বাবুরহাট সড়ক ও মঠবাড়িয়া-ডৌয়াতলা সড়কের পাশে কয়েকটি গাছে এখন সোনালু ফুল শোভা বর্ধন করেছে।
বাহারী ফুল সোনালু। শীতকালে এ গাছের সব পাতা ঝরে পরার পওে বসন্তে একেবারেই মৃতের মতো দাঁড়িয়ে থাকে গাছটি। গ্রীষ্মের শুরুতে দু-একটি কচিপাতার সঙ্গে ফুল ফুটতে শুরু করে। হলুদ সোনালি রঙের অসংখ্য ফুল সারা গাছ জুড়ে ঝাড় লণ্ঠনের মতো ঝুলতে থাকে।
সোনালু গাছের ফল বেশ লম্বা, লাঠির মতো গোল, তাছাড়া ফল, ফুল ও পাতা বানরের প্রিয় খাবার। এজন্য এ ফুলের আরেক নাম বান্দরলাঠি। ফলের শাঁস বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে কাজে লাগে। বাকল, রঙ ও ট্যানিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি এক সারিতে দু-তিনটি গাছে যদি ফুল ফোটে তাহলে সে দৃশ্য বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। শোভন সোনালু ফুলের ইংরেজি নাম গোল্ডেন শাওয়ার।
সোনালু বা বাঁদরলাঠি (বৈজ্ঞানিক নাম : ঈধংংরধ ভরংঃঁষধ এবং অষনরুরধ রহঁহফধঃধ) সোনালী রঙের ফুলবিশিষ্ট বৃক্ষ। উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাসে ঋধনধপবধব গোত্রের এ বৃক্ষের ফল লম্বাটে। সোনালী রঙের ফুলের বাহার থেকেই ‘সোনালু’ নামে নামকরণ। ইংরেজি ভাষায় একে বলা হয় ‘মড়ষফবহ ংযড়বিৎ ঃৎবব’ বা স্বর্ণালী ঝর্ণার বৃক্ষ।
