নবীর সুন্নতের ত্বরীকার উপর চলে মানুষকে খাঁটি আল্লাহওয়ালা বানানোই ছারছীনা দরবারের মূল কাজ … ছারছীনা পীর ছাহেব কেবলা
ছারছীনা দরবার একটি সম্পূর্ন দ্বীনি খেদমতের দরবার। বিশ্ব নবী রাসূলে পাক হুজুর (সাঃ) এর সুন্নতের ত্বরীকার উপর দাদা হুজুর হযরত নেছারুদ্দীন আহম্মদ (রহঃ) এর দরবার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই নবীর সুন্নতের ত্বরীকার উপর চলে মানুষকে খাঁটি আল্লাহওয়ালা বানানোই ছারছীনা দরবারের মূল কাজ। ক্ষমতার লোভে এ দরবারের কোন কার্যক্রম হয়না। এখানে শরীয়াতের পাশাপাশি মারেফাতের কাঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে পথহারা, দিশেহারা লোকদের আল্লাহওয়ালা বানানোর চেষ্টা করা হয় বলেই দুনিয়ার কোন যশ, খ্যাতি বা ক্ষমতার কোন মোহ নেই এ দরবারে।
রবিবার ফজর নামাজ শেষে স্বরূপকাঠিতে অবস্থিত শতাব্দীর ঐতিহ্যধন্য উপমহাদেশের ইসলামী শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপীঠ ছারছীনা শরীফের মরহুম পীর ছাহেব কেবলাদ্বয়ের ঈছালে ছওয়াব ও মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল ও হিযবুল্লাহ সম্মেলনের প্রথম দিনে আসা লাখো লাখো ভক্ত ও মুরিদানদের উদ্দ্যেশে ছারছীনার পীর আমীরে হিযবুল্লাহ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (মা.জি.আ) একথা বলেন।
পীর ছাহেব ১২৭তম তিন দিনের এই মাহফিলের প্রথমদিনে ভক্ত ও মুরিদানদের উদ্দ্যেশে আরো বলেন, দেশের মানুষ ভাল থাকলে দরবার ভাল থাকবে; মানুষ ভাল না থাকলে দরবারেরও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নবী রাসূলের সুন্নতের ত্বরীকায় ছারছীনা দরবার প্রতিষ্ঠিত লগ্ন থেকে চলে আসছে। তাই এ দরবার শরীফের নামকরন করা হয়েছে ছারছীনা দারুছুন্নাত। পীর ছাহেব আরো বলেন,দরবারে শীরক ও বিদআতের কোন স্থান নেই।
মাহফিলের প্রথমদিনে ইসলামের মৌলিক ও সার্বিক বিষয়বালীর উপর মূল্যবান আলোচনা করেন, বাংলাদেশ জমাইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর ও পীর ছাহেব কেবলার বড় ছাহেবজাদা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু বকর নেছারুদ্দীন আহম্মেদ হুসাইন।
মাহফিলের প্রথম দিনেই লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে ছারছীনা ময়দান। আজ মাহফিলের দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিনের মত দ্বিতীয় দিনেও ছারছীনার বিশাল এই মাহফিলে বাস, লঞ্চ ও ট্রলার যোগে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন হাজির হচ্ছেন মাহফিল ময়দানে। মাহফিল উপলক্ষ করে অব্যাহত রয়েছে মুসল্লিদের জনস্রোত। মাহফিলে আসা মুসল্লিদের অব্যাহত জনস্রোত দেখে আশা করা হচ্ছে এবারের এই ১২৭তম বার্ষিক মাহফিলে স্মরনকালের লোক সমাগম ঘটবে।
এর আগে গত শনিবার বাদ মাগরিব জিকির-আজকার, মিলাদ-ক্বিয়াম, সংক্ষিপ্ত নসীহত ও দোয়া মুনাজাতের মাধ্যমে পীর ছাহেব তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল ও হিযবুল্লাহ সম্মেলনের উদ্ধোধন করেন।
আগামী ১৩ মার্চ মঙ্গলবার যোহর নামাজ বাদ দেশ, জাতি ও বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মার সার্বিক কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
