প্রধান সূচি

বাশ-বেতের কাজে চলেনা সংসারের চাকা

চিতলমারীতে চরম দুর্দশায় মুনিপাড়ার বাসিন্দারা

‘ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে ভদ্র পল্লীতে এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবেনা’ পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের জেলে পল্লীকে নিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী এ উক্তিটি প্রযোজ্য বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ও ওয়াপদা ভেড়িবাদের মুনিপাড়া পল্লীর ক্ষেত্রেও।

সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরে অবস্থিত হয়েও এই পল্লীর বাসিন্দাদের এখনও ক্ষুদা তৃষ্ণার দেবতা তাড়া করে ফেরে। পল্লীর প্রায় অর্ধশত পরিবারের সদস্যদের জীবন যাপনের নূণ্যতম চাহিদা পূরণ করার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করতে হয়। অর্থাভাবে অর্ধাহারে অনাহারেও থাকতে হয় তাদের। প্রযুক্তির ছোয়ায় প্লাষ্টিকের দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বাশ ও বেতের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার এ পল্লীর বাসিন্দাদের মূল পেশা বাশ ও বেতের কাজে এখন আর তাদের পেটের ভাত হয়না, চলেনা সংসারের চাকা। বাধ্য হয়ে অনেকে সেলুনের কাজ কাজ করছে আবার কেউবা বিভিন্ন বাজারের ফুটপাতে জুতা পালিশের কাজ করে কোন রকম ভাবে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন। কয়েক বছর আগেও এ পল্লীতে প্রায় অর্ধশত পরিবারের বাস থাকলেও বর্তমানে তা অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে। বিভিন্ন ভাবে প্রভাবশালীরা তাদের জায়গা দখল করার পায়তারা করছেন। জায়গা নিয়ে মামলা রয়েছে প্রভাবাশালীদের সাথে। সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ায় এ পল্লীর কন্যাদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ পল্লীর শিশুরা স্কুলে না গিয়ে পেটের খাবার জোগাড়ের কাজেই ব্যস্ত। পল্লীর কয়েকজন ব্যক্তিকে বয়স্কভাতা প্রদান করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। মুনিপাড়ার অধিকাংশ পরিবার ঋণের জালে জড়িত। অনেক পরিবার কারেন্ট সুদের টাকা পরিশোধ করতে বাপ-ঠাকুরদার ভিটে মাটি বিক্রি করে অন্যত্র বসবাস করছেন। সব মিলিয়ে একইবারেই ভালনেই মুনি পাড়ার বাসিন্দারা। চিতলমারী সদর ছাড়াও উপজেলা বাবুগঞ্জ এলাকায়ও বেশ কিছু মুনি পরিবার চরম দুর্দশায় রয়েছেন।

চিতলমারী উপজেলা দলিত কমিটির সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, এক সময় এ পল্লীতে অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করত। বিভিন্ন কারণে মুনিপাড়ার বাসিন্দারা তাদের কয়েকশ বছরের আবাসভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে নানা চাপে রয়েছেন তারা। কিছু পরিবার ভূমিহীন হয়ে ওয়াপদা ভেড়ি বাদে কোন মতে মাথা গুজে আছেন। অনেক পরিবার পৈত্রিক ভিটাটুকু রক্ষা করার আদালতের শরানাপন্ন হয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। অনেক কষ্টে এ পল্লীর কয়েকজন দুই একজন ছেলে মেয়ে পড়া লেখা করলেও তাদের চাকুরি হচ্ছে না। তাই তিনি এই দলিত গোষ্ঠীর জন্য সরকারি সযযোগিতা কামনা করছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial