ডাক্তার সংকটে স্বরূপকাঠির ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল
২০ জনের বিপরীতে কর্মস্থলে আছে মাত্র পাঁচজন
ডাক্তার সংকটে স্বরূপকাঠি উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২১ ডাক্তারের পরিবর্তে কর্মস্থলে আছে প. প. কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ তানভীর আহম্মেদসহ পাঁচজন ডাক্তার। ওই পাঁচজনের মধ্যে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অফিসিয়ালি নানা কাজকর্ম নিয়ে একটু ব্যস্ত থাকায় রোগীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে কর্মস্থলে থাকা ডাক্তার ফিরোজ কিবরিয়া ও ডাক্তার মোঃ আসাদুজ্জামানের কাছে। প্রতিদিন এলাকাসহ দূরদূরান্ত থেকে সহস্রাধীক রোগীরা এসে ওই দু‘ডাক্তারের রুমে ভীড় জমাচ্ছে। এতে তারা দু‘জনে যেন অনেকটা নাওয়া খাওয়া ভুলে হাসপাতালের আউটডোরে নিরলসভাবে গড়ে প্রায় ১৫০-২০০ রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অব্যাহত এ রোগীদের বিশেষভাবে চাপ সামলাতে হচ্ছে ওই দুই ডাক্তারের।
পাশ্ববর্তী কাউখালি, নাজিরপুর, বানারীপাড়া ও ঝালকাঠি সীমান্ত থেকে রোগীদের আসছে। এজন্য হাসপাতালে সম্প্রতি যোগদান করা ডাক্তার গিয়াস উদ্দীনও এসেই নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় ডাক্তার সংকটে হিমসিম খাচ্ছে এ উপজেলার কয়েক লাখ লোকের বসবাস ৫০ শয্যার একমাত্র এ হাসপাতালটি।
সরেজমিনে, গত কয়েকদিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল আটটা বাজবার সাথে সাথেই আউট ডোরে ভরে উঠে নানা বয়সি রোগীদের। ডাক্তার অফিসে প্রবেশের মধ্যেই রোগীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে তাদের কক্ষে। এসময় রোগীরা চারদিক থেকে ভীড় করে রাখে ওই ডাক্তারদের। সামন্য একটু ধম ফেলারও ফুসরত থাকেনা তাদের। তার উপর রয়েছে সব রোগীদেরই আগে যাওয়ার ব্যস্ততা।
গত বৃহস্পতিবার দেখা যায়, ডাক্তার ফিরোজ কিবরিয়ার কক্ষের ভিতরে ও প্রবেশ পথে রয়েছে ৩৫-৪০ জনের মত রোগী। তিনি একাই সেসব রোগীদের চাপ সামলাচ্ছেন। রোগীদের রোগের বর্নণা শুনে তিনি অনাবরত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। একই অবস্থা দেখা গেছে হাসপাতালের আর এক অভিজ্ঞ ডাক্তার আসাদুজ্জামানের রুমেও। পাশাপাশি হাসপাতালে নতুন যোগদান ডাক্তার গিয়াস উদ্দীনের রুমেও রোগীদের ভীড় দেখা গেছে।
হাসপাতালের প. প. কর্মকর্তা ডাক্তার তানভীর আহম্মেদ বলেন, এখানে বিশজন ডাক্তারের পোষ্ট রয়েছে। সেখানে আমিসহ পাঁচজন ডাক্তার রয়েছে। তবে এ উপজেলার বাহির থেকে রোগীদের অব্যাহত চাপ আছে। এজন্য হাসপাতালের সবাইকেই একটু বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। আশা করি এসমস্য কেটে যাবে বলে টিএইচও জানান।
