পিরোজপুরে ৪৮৮টি পূজা মন্দির; মন্ডবে ২৪ মে.টন সরকারি আতপচাল
শংকর জীৎ সমদ্দার :
হিন্দু ধমালম্বীদের বছরের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব আর মাত্র ৩দির বাকি। আর এতে পিরোজপুর জেলার ৪৮৮টি মন্দির/ মন্ডবে সরকারি ভাবে ২৪ মে.টন আতপ চাল বরাদ্ধা দিয়েছে সরকার। তবে আতপ চালের ক্রেতা না থাকায় এবং সিদ্ধ চালের ক্রেতারা নানা অজুহাতে ওই চাল না কেনার ভান করে আছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ থাকায় ক্রেতার সিন্ডিকেট করে চালের দাম কম বলায় অনউৎসাহীত এসব পূজা আয়োজক কমিটির লোকজন। জেলায় দূর্গা পূজা ও জগদ্ধাত্রী মিলিয়ে ৪৮৮টি মন্ডবের জন্য সরকারি বরাদ্ধকৃত চালের মধ্যে পিরোজপুর সদরে ৬৩টি মন্দিরের জন্য ৩১.৫০০ মে.টন, নাজিপুরে ১১৪টি মন্ডবের জন্য ৫৭ মে.টন, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) ১০৯টিতে ৫৪.৫০০ মে.টন, ভা-ারিয়ায় ৫৪টি মন্ডবের জন্য ২ মে.টন, কাউখালীতে ৩৬টির জন্য ১৮ মে.টন, ইন্দুরকানী ২৬টিতে ১৩ মে.টন এবং মঠবাড়ীয়ায় ৮৬টি মন্ডবের জন্য ৪৩ মে.টন।
এদিকে জেলার ৪টি পৌরসভা ও ৭টি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে মন্দির/ মন্ডব গুলোতে চলছে পূজার শেষ প্রস্তুতি প্রতিমা তৈরির কাজ।
শুক্রবার সরেজমিনে জেলার ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের মদন মোহন জিউর অতিপ্রাচীন এবং দক্ষিণের প্রায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মদন হেমাহন জিউর মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে ওই গোপালগঞ্জ থেকে আসা মৃৎ শিল্পী সমির পাল প্রতিমার রংএর কাজ শেষ করে ত্রীনয়ণী দেবী দূর্গার চক্ষু আঁকার কাজ করছে। এসময় তার সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, এবছর এই মন্দিরের প্রতিমা তৈরিতে ৮জনের একটি দল প্রায় এক মাস ধরে সকল নৈপূণ্যদিয়ে দিন-রাত সমানে কাজ করে যাচ্ছে। কারন আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর পূবাহ্নে ৫ম বিহিত পূজার কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে ৫দিন ব্যপি উৎসবের শুরু হবে। তাই তার মধ্যে প্রতিমা তৈরির সব প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।
এবছর বরিশাল বিভাগে সেরা প্রতিমা তৈরির জন্য এ উপজেলার কেন্দ্রীয় মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবম্বীদের বিশ্বাস অনুয়ায়ী দেবী দূর্গার সাথে থাকা লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্ত্তিক, গণেশ, অসুর, গজসহ সকল বাহন হিসেবে অন্যসব দেব-বেদী ছাড়ার নুতন মাত্র যোগ হয়েছে কালি আদামন (অর্থাৎ শ্রী কৃষ্ণ কালিকে হরন করার দৃশ্য) কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধরাধা-কৃষ্ণের ঝুলন, সত্য যুগর হরির দৃশ্য নান্দনিক ভাবে ফটিয়ে তলেছে শিল্পীর তুলিতে। শুধু কেন্দ্রীয় এ মন্দিরের প্রতিমার তৈরির জন্য শিল্পীকে মজুরী দিতে হবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।
