মিথ্যা মামলা দিয়ে বিধবা পরিবারকে জেলে পাঠিয়ে
কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :
প্রভাবশালী একটি মহল গাছ কাঁটার মিথ্যা মামলা দিয়ে সু-কৌশলে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের অসহায় বিধবা বৃদ্ধা মা ও তার ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আদালত থেকে জামিন নেয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে বিধবার মেয়ে কামরুন্নাহার বেগম মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। এসময় বিধবার পরিবার হাজতে থাকার সুযোগে তালাবদ্ধ ঘরের গ্রিল কেঁটে জমির মূল্যবান কাগজপত্রসহ মালামাল লুটেরও অভিযোগ পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুন্নাহার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার পিতা হাজী আব্দুল খালেক প্রায় ত্রিশ বছর আগে সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। এরপর মা বৃদ্ধা কহিনুর বেগম তাকে ও ভাই সবুরকে নিয়ে বহু কষ্টে বসবাস করে আসছে। তাদের বসতঘরের পাশে পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র বহেরাতলা বাসষ্টান্ড সংলগ্ন আমার পিতার ক্রয়কৃত জেএল নং-২১, (দাগ নং ১১৪৪/১১৪৯) এর ৯ শতাংশ জমির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে এক স্থানীয় প্রভাবশালীর। ওই মহলের হোতা পাতাকাটা গ্রামের মৃত মোবারক আলীর আকনের পুত্র শহিদুল ইসলাম আকন বাদী হয়ে সম্প্রতি গোপনে তাদের ও মামা মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মিয়াসহ ৬ জনকে আসামী করে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মিথ্যা গাছকাটা মামলা দায়ের করে। পরে আদালতের পাঠানো নোটিশ গোপন রেখে আদালতকে ভুল বুঝিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করান। থানা পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা পেলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তার মা ও ভাইকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়।
এই সুযোগে প্রতিপক্ষ শহিদুল স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের ছত্র ছায়ায় গত ১৫ সেপ্টম্বর তার বাবার ক্রয়কৃত প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ওই ৯ শতাংশ জমি প্রকাশ্যে দখল করে টিন ও তাঁর কাঁটার বেড়া দিয়ে স্থাপনা তৈরি করেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরোয়ার হোসেন ছগির বলেন, বিধাব বৃদ্ধা ও তার ছেলে জেলে থাকা অবস্থায় বিরোধীয় জমিতে এভাবে ঘর উত্তোলন করা অমানবিক। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।
তবে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিকানা দাবী করে শহিদুল ইসলাম আকন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি ওই জমির দখল নিতে পারিনাই। এখন জমির দখল নিয়েছি।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে. এম. তারিকুল ইসলাম জানান, আদালতের ওয়ারেন্ট থাকায় বিধবা ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠাতে হয়েছে। বাদীর জমি দখলের ষড়যন্ত্র ছিল কিনা তা আমার জানা ছিল না। খবর পেয়েই পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করিয়েছি।
এসময় তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

