প্রধান সূচি

বাজার খালের কোটি টাকার সরকারি জমি ভাগ বাটোয়ারার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সভা

স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি :

স্বরূপকাঠি উপজেলা সদরের প্রানকেন্দ্র জগন্নাথকাঠি বন্দরের শীতলা খাল সংলগ্ন প্রায় কোটি টাকা মুল্যের সরকারি জমি প্রভাবশালী নেতাদের দখলে নেয়ার পায়তারার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সভা করেছে স্থানীয় জনগণ। বুধবার সকালে উপজেলার সর্বস্তরের জনগনের ব্যানারে বাজারের আমপট্টি এলাকার ওই খালের পাড় থেকে পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বর পর্যন্ত কয়েকশতাধিক লোক দীর্ঘ লাইন করে এ মানববন্ধন প্রতিবাদ সভার করেন।

মানববন্ধনে দখলদারদের হাত থেকে বাজারের একমাত্র এ বাণিজ্যিক খালটি রক্ষার্থে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করে বক্ত্যব্য রাখেন, জগন্নাথকাঠি বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও উপজেলা দুর্নীতি দমন কমিটির সম্পাদক মোঃ মহিব্বুল্লা হাওলাদার, কাজী তৈমুর রহমান, আঃ জব্বার মিয়া, মোঃ মিরন প্রমুখ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস. এম. মুইদুল ইসলাম, বাজার কমিটির আহবায়ক মোঃ সালাম সিকাদর, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আঃ হামিদ মিয়া প্রমুখ। মানববন্ধনে বাজারের শতাধিক দোকানিসহ সর্বস্থরের কয়েক শতাধিক মানুষ অংশগ্রহন করে একাত্বতা প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বাজারের অস্তিত্ব রক্ষার্থে অভিলম্বে বাজারের একমাত্র ওই খোলা জায়গাটি লীজ বাতিল করে বাজারের পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন।

জানাযায়, উপজেলা সদরের প্রানকেন্দ্র জগন্নাথকাঠি বন্দরের প্রায় কোটি টাকা মুল্যের সরকারি জমি সংশ্লিষ্টদের সহযোগীতায় একটি শ্রেণীর কতিপয় স্বার্থান্মেষী প্রভাবশালীরা গোপনে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়ার পায়তারা প্রায় সম্পূর্নর পথে। জগন্নাথকাঠি বন্দর প¦ার্শবর্তী শীতলার খালের ডুবো চরের আট শতাংশ জমি ১৬ জন ব্যাক্তির নামে ভিটি (দোকান)  হিসেবে বন্দোবস্তের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওই ভিটি বরাদ্ধের ফাইল অত্যন্ত গোপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বশির আহমেদ। তারপর গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি তড়িগড়ি করে এখান থেকে রিলিজ হয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষনে বৃটেন চলে যান। এ ছাড়াও সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে ভুমি নীতিমালা উপেক্ষা করে সন্ধ্যা নদীর চরের প্রায় তিন একর মুল্যবান খাস জমি প্রভাবশালীদের নামে একসনা লীজ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব মুল্যবান জমির বন্দোবস্ত পেতে প্রশাসনের সাথে  লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে বাজারে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

স্বরূপকাঠি পৌরসভার পৌর মেয়র মোঃ গোলাম কবির জানান তিনিসহ ৮জন কাউন্সিলর বাজার খালের ডুবো চরের জমি থেকে ভিটি বরাদ্ধ না দেয়ার জন্য গত ২৯ আগষ্ট লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু উর্ধতনদের দোহাই দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের সেই আপত্তি আমলে নেয়নি। অবশ্য পরে তিনি বাধ্য হয়ে ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডের মধ্যস্থতায় পৌরসভার আয় বর্ধনের স্বার্থে ৬জন কমিশনারের নামে ৬টি ভিটি বরাদ্ধ নিয়েছেন। তবে বাকী ১০টি ভিটি কাদের নামে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না বলে দাবী করেন মেয়র। অবশ্য মেয়রের ওই বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবী করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সাঈদ। তিনি বলেন বিভিন্ন জনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি জমি বিধি মোতাবেক বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। পানির নিচের খালের চর ভিটি হিসেবে বরাদ্ধ দেয়ার কারন জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন ওই জমি আগে থেকেই বাজারের অংশ হিসেবে পেরীপেরী করা ছিল। তাই রাজস্ব আয় বৃদ্ধির স্বার্থে বন্দোবস্ত দেয়া হয়। টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়টিকে তিনি ভিটি না পাওয়াদের অপপ্রচার বলে দাবী করেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial