বাগেরহাটে ৬ শতাধিক পূজা মন্ডপে দূর্গোৎসবের জোর প্রস্তুতি চলছে
কামরুজ্জামান, বাগেরহাট :
বাগেরহাটে ৬০৬টি পূজা মন্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠানের জোর প্রস্তুতি চলছে।পূজা মন্ডপগুলোতে কে কত সুন্দর ভাবে প্রতিমা তৈরি করতে পারে তার জন্য ব্যস্ত সময় পারকরছেন প্রতিমা শিল্পিরা। গেল বছর ৫শ ৯১টি মন্দিরে পূজা উৎযাপন করে ছিলো সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ইতিমধ্যে কিছু কিছু পূজা মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আর সেই সকল মন্দিরে চলছে দেব-দেবীকে রঙ্গিন বা রং তুলির কাজ। বাগেরহাটের ৯ উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব। নয় উপজেলার মধ্যে চিতলমারী উপজেলায় সব থেকে বেশি ১৩৯ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
১৯ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দূর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এ বছর দেবী দূর্গা নৌকায় আগমন এবং ঘোড়ায় চড়ে গমন করবেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দূর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসব। এবছর জেলার বেশ কয়েকটি মন্দিরে শতাধিক প্রতিমার মন্ডপ তৈরী করছেন পুজা আয়োজকরা। এদের মধ্যে হাকিমপুর শিকদার বাড়ী, চুলকাঠি বনিকপাড়া পূজামন্ডপ, ফকিরহাট মন্ডপ, কাড়াপাড়া সার্বজনিন পূজা মন্ডপ অন্যতম। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পূজামন্ডপগুলোকে একটু বিশেষ ভাবে সাজানো হচ্ছে।
বাগেরহাট সদরের কাপুড়ে পট্টি এলাকায় প্রতিমা তৈরি দেখতে আসা সুমনা সাহা জানান, মা দুর্গার আগমন উপলক্ষে আমরা উচ্ছসিত। বছরে একবারিই মা আসেন। তাই এ সময়কে আমরা উপভোগ করতে চাই।
হিন্দু, বৈদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বাগেরহাট জেলা সেক্রেটারি ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড. মিলন কুমার ব্যানার্জি জানান, দুর্গোৎসবে আমাদের সকল প্রস্তুতি ভাল ভাবে চলছে।বিগত বছরের তুলনায় এবছর মহা-আড়ম্বর পূর্ণ হবে আমাদের এ অনুষ্ঠান। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তাই এ উৎসবে বাগেরহাটের সকল ধর্মের মানুষ সমানভাবে আনন্দ করবে বলে আশা করি।
বাগেরহাট পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, দূর্গোৎসবে জেলার আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছি। জেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপে অন্য বছর গুলোর মতো এবারও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন । পুলিশের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপির সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর প্রিন্ট করে প্রত্যেক মন্ডপের গায়ে লাগানো থাকবে। যাতে করে কোন সমস্যা হলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে পারে।
