স্বরূপকাঠির কামারপট্টিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কামার শিল্পিরা
স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি :
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই উৎসবের আর মাত্র দু‘দিন বাকি। নারীর টানে বাড়ি ফিরে মানুষেরা পরিবারে সাথে ঈদ করার জন্য বাড়ীতে এসেই তারা ছুটছেন উপজেলার পশুর হাটে। ঘুরে ঘুরে দেখছেন গরুর হাট। হাটঘুরে যে যার সাধ্যমত হাকাচ্ছেন গরুর দাম। একইসাথে তারা ভীড় জমাচ্ছেন কামারপট্টিটে। অর্ডার করছেন গরু জাবাইয়ের ভিবিন্ন ছোরা, চাপাতি, দা ও বটি। এতে সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বেড়ে চলছে কামারশিল্পীদের ব্যস্ততা। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির কোবানির ঈদকে উপলক্ষ্যে করে কামার শিল্পিদের ব্যাস্ততা এখন কয়েকগুনে। টুংটাং, টুংটাং শব্দে মুখরিত এ উপজেলার সবচেয়ে বৃহৎ ইন্দ্রেরহাট কামারপট্টি।
ঈদুল আজহার পশু জবাই করার যন্ত্রপাতি তৈরী করতে দিন রাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিটি কামারশিল্পীরা। ধম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। কোরবানির গরু জাবাইয়ের প্রধান উপকরন দা, বটি. ছুরি, চাপাতি, কুঠার তৈরী করছেন শিল্পিরা। উপজেলার শতাধিক পরিবার বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত। লোহাকে আগুনে গরম করে নরম বানিয়ে পিটিয়ে কামাররা তৈরী করে চলছেন চাহিদা মত ধারালো অস্ত্র। এজন্য দিন রাত কাজে ব্যস্ত শিল্পিরা।
কথা হয় ইন্দ্রেরহাটের কামার শিল্পি সুখরঞ্জন কর্মকারের সাথে। তিনি বলেন, চল্লিশ বছর ধরে এ পেশায় নিয়োজিত আছি। বেচাবিক্রি এবছর তেমন একটা ভাল না। তারপরও ঈদকে টার্গেট করে ব্যাস্ততা অনেকটা বেড়েছে। তকে পেশায় এখন আর কেহ নতুন করে প্রবেশ করছেনা। এ পেশাকে সমাজে খুবই হেও চোখে দেখা হচ্ছে। সুখরঞ্জন আরো জানান, দা, বটিসহ এসব যন্ত্রাশং তৈরীর প্রধান জিনিস হল কয়লা। এখন ক্রমেই কয়লা পাওয়া দুস্কর হয়ে যাচ্ছে। এক বস্তা কয়লা ৪০০-৪৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আর তাছাড়া কারিগরের অভাব থাকায় কারিগর পাওয়া খুবই কষ্টকর। একজন কারিগরকে দৈনিক ৫০০-৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এজন্য এবছর যন্ত্রপাতির দাম একটু বেশি।
কর্মকার অনিল জানান, একটি বড় জবাই ছোরা ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রেলপাডির চাপাডি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০টাকা। এছাড়া, পুরান দাও,বটি পাইন দেয়ার জন্য ৪০-৫০টাকা নেয়া হচ্ছে।
তবে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, কোরবানির ঈদে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। আর এই ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পিরা মজুরী নিচ্ছেন অনেকটা বাড়িয়ে। সরেজমিনে জানা যায়, পিরেজপুরের ইন্দুরহাটের দা, বটি, ছুরি, চাপাতি, কুঠার এর আলাদা সুখ্যাতি রয়েছে দেশের ভিবিন্নস্থানে। এখানকার তৈরী ধারালো দা, বটি, ছুরি, চাপাতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। প্রতি কেজি লোহার চাপাতি তৈরী পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৩৫০/৪০০ টাকায়।
