বিধবা চপলা রানীর কান্না থামছে না
বাগেরহাটের চিতলমারীতে একই রাতে ৩টি চিংড়িঘেরে বিষপ্রয়োগ
বাগেরহাট প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের চিতলমারীতে একই রাতে ৩টি চিংড়িঘেরে বিষ প্রয়োগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা চিংড়িসহ অন্যন্য মাছ চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় চপলা রানী নামে এক বিধবা নারী দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এলাকার চিংড়িচাষিদের মধ্যে বিষ দেওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চিংড়িচাষিদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের মৃত মঙ্গল মজুমদারের স্ত্রী চপলা রানীর ২ বিঘার একটি চিংড়ি ঘেরসহ পাশের প্রদীপ বৈরাগীর আড়াই বিঘা ও শওকত শেখের ২ বিঘার চিংড়ি ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বিষের প্রভাবে চিং ড়িসহ ঘেরের অন্যান্য মাছ কূলের কাছে চলে আসলে দুর্বৃত্তরা সেগুলি চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার সকালে এসব চাষিরা ঘেরে গিয়ে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ মরে ভাসতে দেখে। এ ঘটনায় চপলা রানী নামে এক বিধবা নারী দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার একমাত্র বেঁচে থাকার ভরসা ছিলো এই চিংড়ি চাষ সেটি এখন ভেস্তে যাওয়ায় দারুণ ভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
চপলা রানীর সাথে কথা হলে কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি জানান, গত দু’বছর আগে তার স্বামী ক্যানসারে মারা গেছেন। দু’টি সন্তান নিয়ে শশুরের ভিটায় কোন রকম ভাবে বসবাস করছেন। অনেক কষ্টে ধার-দেনা করে একটি ঘেরে চিংড়ি চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত চিংড়ির পোণার দাম বাকি রয়েছে। এ অবস্থায় কিভাবে দেনা শোধ করবেন সে চিন্তায় দিশেহারা। তার ঘেরে বিষ প্রয়োগে এসব চিংড়ি নিধন হওয়ায় এখন চরম হতাশায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। এখন শুধু হাউ-মাউ করে কাঁদছেন আর বিলাপ করেছেন কিভাবে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকবেন এবং পাওনাদারদের দেনা শোধ করবেন।
এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ওসি অনুকূল চন্দ্র সরকার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা একটি অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে । কে বা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে এলাকাবাসির সহযোগিতা নিয়ে তাদের খুঁজে বের করা হবে।
