১৭ বছর শিকল বন্দী ইন্দুরকানীর কবির
আহাদুল ইসলাম শিমুল :
ঝুপড়ি ঘরের বারান্দার পাশে মোটা একটি পেয়ারা গাছ। গাছের সাথে শিকলে বাঁধা কবিরের হোসেনের বাম পা। এই বারান্দায় শিকল বন্দী অবস্থায় বসবাস তার। এখানেই তাকে খেতে, ঘুমাতে ও গোসল করতে হয়। এমনকি প্রকৃতির ডাকেও সাড়া দিতে হয় শিকল বন্দী অবস্থায়। আর এসব কিছুতে তাকে সাহায্য করে বৃদ্ধা মা সালেহা খাতুন। বর্তমানে কবিরের বয়স ৩৮ বছর। ১৫ বছর বয়সে মানষিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে কবির। পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়ার কলারন গ্রামের বাসিন্দা সে। তার বাবা আকাব্বর আলী মৃধা মারা গিয়েছে এক যুগ হয়েছে।
প্রথম দিকে খুব বেশি সমস্যা ছিল না কবিরের। জ্বীন ভুতে আছর করেছে ভেবে গ্রাম্য ওঝার ঝাড় ফুকের তদবির নেয়া হয়। তাতে কোন সমাধান হয়নি। এ অবস্থায়ই তাকে বসতে হয় বিয়ের পিরিতে। ভারসম্যহীন অবস্থাতেই একটি কন্যা সন্তানের জনক হয়ে যায় কবির। স্ত্রী বেশি দিন তার সংসারে থাকেনি। সন্তানকে নিয়ে চলে যায় বাবার বাড়িতে। এখন তার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে দিন দিন অসুস্থতার মাত্রা বেড়ে যায় কবিরের। ২২ বছর বয়সে তাকে শিকল বন্দী করা হয়। সংসারের সবার জীবন স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। শুধু কবিরের জীবনটাই শিকল বন্দী। চিকিৎসার অভাবে বন্দী দশা হতে মুক্ত হওয়ার যেন আর কোন উপায় নেই তার। চিকিৎসা ভার বহন করার মত সামর্থ তাদের পরিবারের কারোর নেই। দুই ভাই দিন মজুর। দিন আনে দিন খায়। তাতে কবিরের চিকিৎসার ব্যয় মেটান কোন ভাব সম্ভব নয়।
কবিরের ভাই জলিল বলেন, ‘মোরা খুবই গরীব। নিজেগো খাওনের জোগান দেতেই কষ্ট। অসুস্থ ভাইরে ডাক্তার দেহামু কেমনে? ভাল চিকিৎসা করাইতে পারলে ভাই মোর সুস্থ হইয়া যাইতে।’
কবিরের প্রতিবেশী ইন্দুরকানী কলেজের প্রভাষক শারমিন হোসেন জানান, ‘কবিরকে উন্নত চিকিৎসা দিতে পারলে সে সুস্থ হয়ে যাবে বলে ডাক্তারদের মতামত। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে তার চিকিৎসা মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’
