ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বাড়ী ভাংচুর লুটপাট
স্বরূপকাঠিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠে শিশুর মৃত্যু ॥ মানববন্ধন ॥ থানায় মামলা
স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি :
স্বরূপকাঠির সীমান্তবর্তী নান্দুরহার গ্রামে বিদুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে মোঃ আলাল (১৪) নামে এক ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাড়ীতে হামলা করেছে প্রতিপক্ষরা। বর্তমানে এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদুৎস্পৃষ্ঠের মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যার অভিযোগ এনে উত্তেজিত জনতা ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপট চালায় চালায় প্রতিপক্ষরা বলে এ অভিযোগ পাওয়া যায়। তারা বাড়ীর মালিক আবুল কালাম আজাদের বিচার দাবী করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যূ মামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে এনে অপর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী শাহিদা বেগম বাদী হয়ে ১৬ জনকে অসামী করে মামলাটি দায়ের করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে।
জানাযায়, স্বরূপকাঠি ও বানারীপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অংশে শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ একটি বাড়ী নির্মান করেন। ওই ভবনে ইলেকট্রিকের কাজ করতে যায় প্রতিবেশি বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের হত দরিদ্র মোঃ হানিফ তালুকদারের ছেলে আলাল। সে নেছারাবাদের নান্দুহার ইউনাইটেড ইনষ্টিটিউটের ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র। রবিবার বিকাল ৫টায় নির্মানাধীন ওই বাড়ীতে পানি মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বিদুৎপিষ্ট হয়ে আলালের মৃত্যু হয়। এতে উত্তেজিত জনতা আবুল কালামের বাড়ীতে ভাংচুর চালায়। এ ঘটনায় সোমবার ঈদের নামাজ শেষে নান্দুহার বাজারে ইলুহার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম শহিদের নেতৃত্বে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোধারী আবুল কালাম আজাদের শাস্তির দাবী করা হয়।
সরেজমিনে আবুল কালাম অজাদের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় বাড়ীর গেট ভেঙে বাড়ীর ভেতরে ব্যাবপক তান্ডব চালানো হয়েছে। ভবনের দরজা জানালাসহ সকল আসবাবপত্র, ফ্রিজ টেলিভিশন এবং ভবনে রাখা অনেক টাইলস ভেঙে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানায় এলাকার নেতৃস্থানীয় লোকজন আবুল কালামের বিপক্ষে অবস্থান করছেন। তারা বলেন শিশু শ্রম হোক আর অবৈধ সংযোগ হোক কালামের ত্রুটির জণ্য আইনের আশ্রয় নেওয়া যেত। কিন্তু বাড়ীঘর ভাংচুর করার ঠিক হয়নি এটা একটি হীন উদ্দেশ্য।
অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার মেধা ও উন্নতিতে ইর্শান্বিত একদল লোক মিথ্যা ও কাল্পনিক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি ইন্দুরহাটে ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ী যাচ্ছিলেন। পথে এলাকাবাসী তাকে বাড়ী যেতে বারন করে জানান, তার বাড়ীতে ভাংচুর করা হচ্ছে। পরে বাড়ী ফিরে দেখেন তার বাড়ীর বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ বাড়ীতে রাখা টাকা পয়সা লুটে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী ও নিহত আলালের পরিবার লাশ নিয়ে রোববার রাতে থানায় আসেন। থানায় অপমৃত্যু মামলা রজু করে লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাথে সাথে ওই এলাকায় ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন হত্যার অভিযোগ তুলে এলাকার কিছু উশৃঙ্খল লোকজন আবুল কালাম অজাদের বাড়ীতে তান্ডব চালিয়েছ্। আবুল কালাম আজাদের পক্ষ থেকে তার স্ত্রী শাহিদা বেগম ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
