প্রধান সূচি

স্বাধীনতার আকাঙ্খা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন …. আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

সাইফুল্লাহ হুমায়ুন :
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টি (জেপি)’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, জনগণের ভাল থাকার জন্য স্বাধীনতা আনা হয়েছে। আর এ স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হলে সর্বস্তরে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করতে হবে। স্বাধীনতার সুফল লাভের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়া এবং ক্রীড়া-সংস্কৃতি চর্চার সাথে তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আজ শনিবার বিকেলে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট রাজলক্ষ্মী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং সূধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে বাস্তবায়নের জন্য মানুষের সুখ-শান্তিতে বসবাসের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এর অন্যথা হলে স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ ও উৎস্বর্গ বৃথা যাবে। দেশের মানুষ যতদিন থাকবে ততদিন প্রয়োজনের শেষ নেই। এই প্রয়োজন মিটানোর জন্য আমাদের সম্মলিতভাবে কাজ করা উচিত। আজ মানুষের অভাব দূর করাসহ তাদের উন্নত জীবন-যাপন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের সক্ষমতা অনেক। এখন সরকার চার লাখ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে কাজ করছে। ৩০ বছর আগে যা ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকা। এখন বড় বড় প্রকল্পের কাজ করা হয়। তারপরও বরাদ্দের ৪০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়, বছর শেষে ৬০ শতাংশ বরাদ্দ আমরা সদ্ব্যবহার করতে পারি না। বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ সরকার সমর্থক কিছু লোকের লুটপাটের কারণে কাজে লাগানো যায় না। এ অবস্থার সৃষ্টি না হলে গত তিন বছরে আমরা আরও অনেক উন্নয়ন কাজ করতে পারতাম। অনেক প্রকল্প আমরা গ্রহণ করি, কিন্তু সময়মত তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না এসব কাজে সংশ্লিষ্ট কারও কারও নেতিবাচক ভূমিকার কারণে। স্থানীয় জনগণের উচিত যাদের কারণে এ কাজ গুলি অসমাপ্ত থাকে তাদেরকে প্রশ্ন করা, জবাবদিহিতার আওতায় আনা।
মন্ত্রী বলেন, পাড়েরহাট বন্দর কেন্দ্রিক অতীতে অনেক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের এই বৃহৎ ব্যবসা কেন্দ্রটির দেশের সাথে সড়ক সংযোগ আমাদের হাতেই হয়েছে। এখানে একটি ব্রীজ কিছুদিন আগে ভেঙ্গে যাওয়ায় মৎসজীবি, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসীর দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে অচিরেই একটি নতুন ব্রীজ নির্মাণসহ এ ব্রীজটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি এ বিদ্যালয়টির জন্য একটি সাইক্লোন শেল্টার কাম ক্লাশ রুম নির্মাণ করা হবে। এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরাসহ সকল শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার ও গুগল চর্চা শিখে নিজেদেরকে আধুনিক শিক্ষার উপযোগী করে তুলতে হবে। সাথে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চাও চালাতে হবে দৈহিক গঠন ও মানসিক উৎকর্ষতার জন্য।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম বাহাদুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মতিউর রহমান, ইন্দুরকানী জেপি’র সভাপতি আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার চক্রবর্তী ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য স্বপন কুমার সাহা। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
দুপুরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এখানে তিনি বলেন, আগে কৃষিখাত অবহেলিত ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এ ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন। এ জন্য তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। এখন আর অতীতের মত সার-বীজ, কৃষি উপকরণ কৃষকরা বাজারে বিক্রি করে দেন না। তা তারা নিজেরা ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু ফসলের উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, ফল-শাকসবজিরও চাষ করতে হবে। কৃষি ও প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী বিভিন্ন ষ্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ পিরোজপুরের উপ-পরিচালক মো. আবুল হোসেন তালুকদার।
এ সময় মন্ত্রী ইন্দুরকানী উপজেলার সুবিধা বঞ্চিত ব্যক্তি ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থের চেক বিতরণ করেন। এসময় ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলের অর্থের চেক বিতরণ, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ঢেউ টিন ও অর্থের চেক উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর মন্ত্রী ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ইন্দুরকানী উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয়, আইন-শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্য সেবা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে তার অংশ ইন্দুরকানীতেও আনতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন এলাকার মানুষকে গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোন রকম উস্কানী বা প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হতে হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট-খুলনার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই সেখানে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। তাই স্থানীয় নেতৃত্বের সচেতন ও উদ্যোগী হওয়ার বিকল্প নেই। ইন্দুরকানীর ইউএনও মো. নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা বেগম, ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মনিরুজ্জামান, পত্তার্শী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন বয়াতিসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ইন্দুরকানীতে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. বেলায়েত হোসেন মন্ত্রীর কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ তুলে ধরলে তিনি এ ব্যাপারে যথাসাধ্য সহযোগিতার কথা বলেন।
ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি শংকর জিৎ সমাদ্দার জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সকালে ভান্ডারিয়া পৌরএলাকার গাজীপুরের দু’টি শাখা খালের পুনর্খনন কাজ উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় ভান্ডারিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, ইউএনও মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য ইউসুফ আলী আকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial