সূর্যমুখির হাসি কৃষকের চোখে
প্রদীপ মন্ডল, চিতলমারী :
বাগেরহাটের চিতলমারীর বলেশ্বর নদীর চরে যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ ফুলের মাঠ। সাধারণ এ ফুলে বসে মধু আহরণ করছে মৌমাছিরা। এখানে যেন প্রজাপতি, কীটপতঙ্গ আর পাখিদের মেলা বসেছে। নানান রঙের পাখা মেলে তারা উড়ছে। সূর্যমুখী ক্ষেতের এমন নজরকাড়া দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করছে। স্বাস্থ্যসম্মত বিশুদ্ধ তেল উৎপাদনে সূর্যমুখীর জুড়ি মেলা ভার। ফলে এটি এখন এলাকায় বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।
চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী বলেশ্বর নদীর বিস্তৃর্ণ চর ও আশপাশের গ্রামের ফসলের জমিতে গত কয়েক বছর ধরে বানিজ্যিক ভাবে সূর্যমুখি’র চাষ হচ্ছে। ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের চেয়ে এটি লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক আগ্রহের সাথে এটি চাষ করছেন। এটি চাষের মাধ্যমে এখন চাষিরা ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন। উপজেলার খলিশাখালী, গরীবপুর, কৃষ্ণনগর, ডাকাতিয়া, অশোকনগর, শিবপুর, হিজলাসহ ১০-১৫ টি গ্রামের চাষিরা ফসলের জমিতে সুর্যমুখি চাষ করেছেন। বলেশ্বর নদীর পাড়ের কৃষাণ-কৃষাণীরা এখন তাদের সূর্যমুখি ক্ষেত পারিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবছর তারা উৎপাদন ব্যয়সহ লাভের একটি বড় অংশ ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী। এ ফুলের বীজ থেকে স্বাস্থ্যসম্মত ভৌজ্য তেল উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানান চাষিরা। প্রতি একর জমিতে ফলন ভালো হলে ৩০-৪০ মণ বীজ সংগ্রহ করা যায়। যার বাজার মূল্য ৫৫-৬০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিকেজি বীজ থেকে ৪০০-৫০০ গ্রাম ভোজ্য তেল উৎপাদন করা সম্ভব। যেটি অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক।
বলেশ্বর পাড়ের সূর্যমুখি চাষি রণজিত ঢালী, হায়দার আলী, প্রফুল্ল কুমার বিশ্বাসসহ অনেকে জানান, তারা গত কয়েক বছর ধরে চরের জমিতে সূর্যমুখি’র চাষ করছেন। সূর্যমুখির বীজ থেকে খাঁটি ভোজ্য তেল উৎপাদন হয়। তারা আরও জানান, চাষ করা সূর্যমুখির বীজ থেকে যে তেল হয় তা নিজেদের পরিবারের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করে দেন। এছাড়া ফুলের ক্ষেতে মৌমাছিদের আনাগোনা দেখা যায়। এতে করে প্রচুর মধুু সংগ্রহ করা সম্ভব। এটি চাষের মাধ্যমে তারা এখন ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন।
এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আবুল হাসান জানান, সূর্যমুখি চাষের জন্য এখানকার চাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ বছর এ উপজেলায় ১৮৭.৫ বিঘা জমিতে ‘হাইসান-৩৩’ জাতের সূর্যমুখির চাষ হয়েছে। অবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা লাভের মুখ দেখতে পারবে বলেও তিনি জানান।
