অনুমোদনহীন ইটভাটা অপসারনের দাবিতে ইন্দুরকানিতে মানববন্ধন
ইন্দুরকানি উপজেলার পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা রহুল আমীন বাঘার অনুমোদন বিহীন ইটভাটা অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকার জনগন। শুক্রবার দুপুরে পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের কেবিআই নামের ওই ইট ভাটার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ইট ভাটার আশপাশ এলাকার গাছপালা ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দাবিকরে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার জনগন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ভাটাটি অপসারন ও ক্ষতিপূরনের দাবি জানান।
এসময় স্থানীয় বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম গাজী, সালেক ফরাজী ও মামুন মোল্লা জানান, আমরা ১০ বছর আগে সিডরে বিপুল সম্পদ খুইয়েছি, যার ধকল এখনও সামলে উঠতে পারিনি। এখন আবার নতুন উপদ্রপ অবৈধ এই ইটভাটা। এই ইটভাটার ধোঁয়া ও আগুনের তাপে আমাদের বাগানের গাছপালা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। নাড়িকেল ও সুপাড়ী গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। আগামীতে ক্ষেতের ফসল ভাল না পাইলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, এ উপজেলায় ৭ থেকে ৮টি ইটভাটা গড়ে উঠলেও তন্মধ্যে পাঁচটির কোন বৈধ কাগজ পত্র নেই। আর এই কেবিআই ভাটাটির দুই পাশে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ রয়েছে জনবসতি। ইটভাটা সংলগ্ন বসত ভিটার বিভিন্ন ফলজ ও বনজ বৃক্ষ ভাটার আগুনে ঝলসে বিবর্ণ হয়ে গেছে। এই ভাটাটি স্থাপনের পর থেকে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি। অভিযোগ দেওয়ায় ভাটার মালিক কৃষকলীগ নেতা রুহুল আমীন বাঘা আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান। হুমকী দিয়ে বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ইটভাটা করেছি, পারলে বন্ধ কর।
বালিপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও চন্ডিপুর ৩১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, ধানী জমিতে ইটভাটা নির্মান যেমন আইনসম্মত নয়, তেমনি বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক পরিবেশ দূষনের সম্মুক্ষীন হবে।
তবে ইট ভাটার মালিক রুহুল আমিন বাঘার সেজ ছেলে জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বুঝতে পেরেছি ইট ভাটার কারণে এলাকার মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। তাই ভাটার কাঁচা ইট অন্য জিকঝাক ভাটায় পোড়ানোর ব্যবস্থা করছি।
