বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত-২ ॥ আটক ৬
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নের পূর্ব সোনাখালী গ্রামে শুক্রবার সকালে জমিতে ধান কাটা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ইব্রাহিম শেখ (৪৫) ও পলাশ শেখ (৩৫) নামের দুই জন নিহত হয়েছে। এসময় নারী পুরুষসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কামপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় পাঁচজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয় জনকে আটক করেছে। সংঘর্ষে নিহত ইব্রাহিম শেখ মোড়েলগঞ্জের উপজেলার পাতাবাড়িয়া গ্রামের তোরাব আলী শেখের ছেলে ও পলাশ শেখ মোড়েলগঞ্জের উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের শাজহান শেখের ছেলে। নিহত দুই জনই পেশায় মটর শ্রমিক। এ ঘটনায় আটক ব্যাক্তিরা হলেন, সোনাখালী গ্রামের শহিদুল খান (৪৫), মজিবুর খান (৬০), ওহাব খান (৬৫), বারেক খান (৬২), মজিবুুুর খানের ছেলে ইব্রাহীম খান (২৭) এবং নূর ইসলাম (৩০)। ঘটনার পরপরই বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়সহ পুলিশের উদ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, পুটিখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহচাঁন মিয়া শামীম ও স্থানীয় লোকজন জানান, এক বিঘা জমি নিয়ে সোনাখালি গ্রামের আব্দুর রহিম খানের সঙ্গে প্রতিবেশী শহীদুল খানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রদি ওই জমিতে আব্দুর রহিম আমন ধান চাষ করেন। এদিন সকালে সকাল ৮টার দিকে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে শহীদুল খান ১২/১৪ জন শ্রমিক নিয়ে ওই ধান কাটতে যান। এসময় আব্দুর রহিমের আত্মীয় স্বজনরা বাধা দিলে শহীদুলের লোকজন ধারালো দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় প্রতিপক্ষ শহীদুল খানের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আব্দুর রহিম খানের আত্মীয় ইব্রাহিম ও পলাশ ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
বাগেরহাট পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ছয় জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
