প্রধান সূচি

ইন্দুরকানীতে ৮ কমিউনিটি ক্লিনিক জরাজীর্ণ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় রোগিদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জনগণের দোর গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দেয়ার লক্ষে বর্তমান সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ২০০৯ সালে পুনঃরায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করে। কিন্তু এর আগে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসব ক্লিনিকগুলোর সংস্কার না হওয়ায় বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। বর্তমানে এ উপজেলার ১২টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৮টি ক্লিনিকের অবকাঠামোগত অবস্থা অনেকটাই নাজুক।

ইন্দুরকানী উপজেলায় লক্ষাধিক জনসংখ্যার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য ১৯৯৯-২০০২ সালে ৮টি, ২০১২- ২০১৩ সালে ৩টি এবং চলতি বছরে আরও ১টিসহ মোট ১২ টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ ৮ বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ক্লিনিকগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি ৬ হাজার জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মান করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ উপজেলার চাড়াখালি কমিউনিটি ক্লিনিক, খোলপটুয়া ক্লিনিক, জোমাদ্দারহাট ক্লিনিক এবং তালুকদার হাট ক্লিনিক রেখাখালী কমিউনিটি ক্লিনিক, ভবানিপুর কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ৮টি ক্লিনিক বর্তমানে একেবারে জড়াজীর্ণ। এসব ক্লিনিকের বাথরুম ও টিউবওয়েল দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে  আছে। ক্লিনিকগুলোর ফ্লোর ও দেয়ালের প্লাষ্টার খসে পড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব ক্লিনিকের ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে ঔষধসহ আসবাবপত্র ভিজে যায়। বৃষ্টির মৌসুমে ছাদ থেকে পানি পড়ায় সিএইচসিপিরা ছাদে পলিথিন ব্যবহার করে পানি পড়া বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এছাড়া কিছু কিছু ক্লিনিকে এখনো পৌছায়নি বিদ্যুৎ সুবিধা। যার কারনে গরমের মধ্যে প্রচন্ড কষ্ট করতে হয় স্বাস্থ্যকর্মি ও রোগীদের। বিভিন্ন সমস্যার কারনে ক্লিনিকগুলোতে নরমাল ডেলিভারি করানোও সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান সিএইচসিপিরা।

খোলপটুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিজি সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন আবু জানান, এ এলাকার ক্লিনিকগুলোর অবকাঠামোগত নানান সমস্যার কারনে স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা প্রদানে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয় জোমাদ্দারহাট কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নাজমুন্নাহার বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই ক্লিনিকের ছাদ চুসে পানি পড়ে সমস্ত আসবাবপত্র ভিজে যায়। রোগীদের সেবা প্রদানে বিঘœ ঘটছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শংকর কুমার ঘোষ বলেন, যেসব কমিউনিটি ক্লিনিকের অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে সেসব ক্লিনিকগুলোর দ্রুত সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার তালিকা পাঠানো হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial