প্রধান সূচি

মংলা বন্দরের জেটি থেকে কাপড় চুরির দেড় বছরেও উদঘাটন হয়নি

মংলা বন্দরের জেটির অভ্যন্তরের সংরক্ষিত এলাকা থেকে কন্টেইনারের তালা ভেঙ্গে কোটি টাকার কাপড় চুরির রহস্য দেড় বছরেও উদঘাটন হয়নি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও চুরি যাওয়া কাপড় উদ্ধার ও জড়িতদের খুঁজে পায়নি পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, এ চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেরাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কম দামের ফেব্রিকস কাপড়ের পরিবর্তে একটি প্রতিষ্ঠান বেশি মূল্যের উন্নতমানের প্যান্টিং ও স্যুটিং কাপড় আমদানি করে। এ বিষয়টি মংলা শুল্ক কর্তৃপক্ষ গোপন সূত্রে জানার পর ওই কাপড় আমদানি প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ীক কৌশলগত কারণে কাপড় ডেলিভারি না নিয়ে গা ঢাকা দেয়। শুল্ক কর্তৃপক্ষ ওই কাপড় রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্য নিলামে ৫২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে মেসার্স বাবুল ট্রেডার্সের কাছে বিক্রি করে। বাবুল ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মোঃ আলী আক্কাস ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কাপড় বুঝে নিতে এসে ওই কন্টেইনারে থাকা ২৭০ বেল কাপড়ের মধ্যে মাত্র ১৪ বেল কাপড় পান এবং বাকিগুলো উধাও হয়ে যায়।

বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় থাকা কন্টেইনারের তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ এ চুরির ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে। এরপর নিলাম ক্রেতা ওই প্রতিষ্ঠান কোনো কাপড় না নিয়ে ঘটনাটি লিখিতভাবে মংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনারকে জানান। এ ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার মোঃ এনামুল হককে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অপরদিকে একই ঘটনায় মংলা বন্দরের তৎকালীন প্রধান নিরীক্ষা কর্মকর্তা মীর হোসেনকে প্রধান করে বন্দর কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির পর্যবেক্ষণ ছিল, এ কাপড় পাচারের সঙ্গে বন্দরের কতিপয় কর্মচারীসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র জড়িত রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকতে পারে তাদের পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে নিলামে কাপড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান কাপড় না পেয়ে তাদের বিডির (ব্যাংক ড্রাফট) টাকা ফেরত পেতে পদে পদে নাকানি-চুবানি খেতে খেতে আদালতে মামলাও করেছে। এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সে সময়ে মংলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত খোয়া যাওয়া কাপড় উদ্ধার বা এ ঘটনায় কোনো ক্লু খুঁজে বের করতে পারেনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মামলাটি তদন্তনাধীন রয়েছে। পুলিশ মামলার ক্লু উদঘাটন ও চুরি যাওয়া কাপড় উদ্ধারে তৎপর রয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial