প্রধান সূচি

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মন্দিরের জমি দখল জামায়াত নেতার : উদ্ধারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংবাদ সম্মেলন

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত ৪২ শতক জমি জমি উদ্ধারে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মন্দিরের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার উপজেলার সমুদয়কাঠি গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী শীতলা মন্দিরের সভাপতি মনোজ বিশ্বাস লিখিত বক্তব্যে বলেন, সমুদয়কাঠি গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত ৪২ শতক জমি রয়েছে। জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ এবং খতিয়ান নম্বর ১৩০। কয়েক দশক ধরে ওই জমিতে শীতলা পূজা অর্চনা হয়ে আসছে। সর্বশেষ বিএস জরিপেও জমিটি ৮জন হিন্দু শরিকের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
মনোজ বিশ্বাসের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতা নেতা মো. শফিকুল ইসলাম কয়েক বছর আগে সমীর রঞ্জন আইচ ও উত্তম বেপারীর কাছ থেকে জমি কিনে ভোগদখল শুরু করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত ৪২ শতক জমিও নিজের বলে দাবি করে দখলে নেন। পরে সেখানে ধান চাষ শুরু করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, শফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়নাচুক্তির ভিত্তিতে আদালতের ডিক্রি নিয়ে জমিটি দখলে নিয়েছেন। অথচ তার কেনা জমির দাগ ও খতিয়ানের সঙ্গে মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত জমির দাগ ও খতিয়ানের পার্থক্য রয়েছে। ফলে জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
মন্দির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, শফিকুল ইসলাম ও তার ভাই সিদ্দিক স্থানীয় সমীর রঞ্জন আইচ ও উত্তম আইচ কাছ থেকে তিনটি দলিলের মাধ্যমে প্রায় ৮ বিঘা জমি কিনেছেন। তবে ওই জমির দাগের সঙ্গে মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত ৪২ শতক জমির দাগের মিল নেই।
সমুদয়কাঠি রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রম মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শেখর বড়ৈ বলেন, সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলা মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত ওই জমিতে আগে পূজা অর্চনা হতো। ছোটবেলা থেকেই আমরা তা দেখে আসছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ১নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম জমিটি দখল করে ধান চাষ শুরু করেছেন। পরে আমরা বাধা দিয়ে জমিতে মন্দিরের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ায় তিনি আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সমাজসেবক মো. মজিবুর রহমান বলেন, ওই জমিতে একসময় শীতলা পূজা হতো। যতদূর জানি, জমিটি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। এখন দেখছি জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম জমিটি ভোগদখল করছেন।
এদিকে শফিকুল ইসলামের খালা বৃদ্ধা মরিয়ম বেগমও তার (শফিকুল ইসলাম) বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, শফিকুল তার নিজের জমিও অন্যায়ভাবে দখল করেছেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতে পারেন না এবং প্রতিবাদ করলে আইনি ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন মরিয়ম বেগম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম নিজেকে নির্যাতিত দাবি করে বলেন, তিনি প্রায় ৩০ বছর আগে সমীর রঞ্জন আইচের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি কিনেছেন। দলিলের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আদালতের ডিক্রি নিয়ে জমির নামজারি করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রায় ৩০ বছর আগে জমি কেনার পর সরাসরি দলিলের ভিত্তিতে রেকর্ড না নিয়ে পর্যায়ক্রমে আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে নামজারি করার কারণ জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, এটা আদালতের বিষয়। আমি এর উত্তর দিতে পারব না।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial