প্রধান সূচি

পাইকগাছায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ওলকচু চাষ

কম খরচে বেশি ফলন পাওয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিক ওলকচুর চাষ দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পাইকগাছা উপজেলার মাটি ওলকচু চাষের উপযোগী। চলতি বছর উপজেলাতে প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে ওলকচু চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, চৈত্র মাসে জমিতে ওলকচুর বীজ রোপণ করতে হয়। ওলকচুর পূর্ণতা পেতে পুরো ৬ মাস সময় লাগে। সেই হিসেবে জমি থেকে ভাদ্র মাসে ওলকচু উত্তোলন করা যাবে। এ সময়ে ওলকচু চারা ওজনের ৪/৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে একেকটি ওলকচু ৮/১০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা ওলকচু অত্যন্ত সুস্বাদু। কোন রকম গলা জ্বালা করে না। এ কারণে বাজারে এ ফসলের চাহিদা রয়েছে অনেক।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের হিতামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ২০ শতাংশ জমিতে মাদ্রাজী শ্বেতি জাতীয় ৪০০টি ওলকচু চাষাবাদ করেছেন। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ওলকচুর গাছগুলো ২/৩ হাত লম্বা হয়েছে।
ওলকচু চাষি রফিকুল বলেন, ২০ শতাংশ জমি থেকে প্রায় ১০০ মণ ওলকচু বিক্রি করতে পারবো। ওলকচুর পাশাপাশি বীজও সংগ্রহ করে বিক্রি করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি। বর্তমান বাজারে ওলকচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওলকচুর গাছে তেমন কোনো রোগ হয় না। তবে পাতা ও কান্ড পচা রোগ দেখা যেতে পারে। ওলকচুর ক্ষেত্রে কীট পতঙ্গ তেমন কোন সমস্যা নেই। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, গোড়া উঁচু করে দেয়া ও গোড়ায় খড় বা আচ্ছাদন দিয়ে ঢেকে দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। জৈব সার বেশি ব্যবহার করা ভালো। তবে রাসায়নিক সার যেমন ইউরিয়া, পটাশ, টিএসপি সারও কিছু দেওয়া যায়। গাছ লাগানোর ৭ থেকে ৯ মাস পর গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাবে তখন ওলকচু সংগ্রহ করতে হবে।
উপজেলা কৃষি আফিসার কৃষিবিদ অসিম কুমার দাশ বলেন, সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত রেখে চাষ করলে ওলকচু চাষিরা প্রতি শতাংশে ৫/৬মন ওলকচু সংগ্রহ করতে পারবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial