প্রধান সূচি

পিরোজপুরের রেমাল উপদ্রুত দুর্গত মানুষ খাবার পানির তীব্র সংকটে

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রায় ৪৮ ঘন্টাব্যাপী তান্ডবে যে জলোচ্ছ¡াস হয়েছে তাতে জেলা শহর পিরোজপুরসহ উপজেলা শহর ও গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ায় বাসিন্দারা খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছে।
পিরোজপুর শহরের প্রায় ৫ হাজার বাড়ির অধিকাংশ পৌর পানি সরবরাহের ভূ-গর্ভস্থ পানির রিজার্ভ ট্যাংক নিমজ্জিত হয়ে ময়লা পানি প্রবেশ করে ট্যাংকের পানি দূষিত হয়েছে। এসব ট্যাংকের দূষিত পানি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে পৌরবাসী অত্যন্ত বিপদাপন্ন হয়ে পড়ে। পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আংশিক চালু হলেও পানি পান, রান্না কাজে ব্যবহার, গোসলসহ শহরবাসী ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংকের পানি কাজে লাগাতে পারছে না। পানির পাম্প থেকে পানি উঠিয়ে বাসভবন সমূহের ওভারহেড ট্যাংকে নিলেও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করার সময় ময়লাযুক্ত দূষিত পানি তীব্র গন্ধ অনুভূত হয়। মানুষ এই দূষিত পানি পানসহ গোসল, রান্না কাজে ব্যবহার করতে পারছে না। শত শত বাড়ির ট্যাংকের দূষিত পানি অপসারণ করার মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় পৌরবাসী দারুণ বিপাকে পড়েছে। ট্যাংক পরিস্কার করে দূষিত পানি মুক্ত করার জন্য শহরে হাতে গোনা কয়েকটি পাম্প থাকায় তা নিয়ে মেকারের দোকানে কাড়াকাড়ি চলছে।
পিরোজপুর কালিবাড়ী রোডের মোটর মেকানিক রফিকুল ইসলাম জানান, স্বাভাবিক সময় তাদের হাতে সীমিত সংখ্যক বিশেষ ধরণের কয়েকটি পাম্প থাকে যা তখন মাঝে মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী কাজে লাগানো হয়। এই দুর্যোগের মধ্যে শহরে দালান ও বাড়ীর ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংক পরিস্কারের জন্য মানুষের ভীড় লেগে থাকায় মেকানিকরা পাম্প সরবরাহ করতে পারছেন না।
পিরোজপুর শহরের আমলা পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম খান জানান, তাদের দালানটি সাধারণ অন্যান্য বাড়ির চেয়ে অপেক্ষাকৃত উঁচুতে। কিন্তু রেমালের প্রভাবে তাদের বাড়ির এলাকাসহ শহরের অধিকাংশ এলাকা ৪/৫ ফুট পানিতে প্রায় ৮-১০ ঘন্টা নিমজ্জিত ছিলো। ফলে রাস্তা ও আশেপাশের ময়লাযুক্ত পানি ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংকের মধ্যে ঢুকে যায়। এদিকে, ঘূণিঝড়ের দুই দিন ধরে পৌর পানি সরবরাহের পানি কোন কোন এলাকায় পাওয়া গেলেও তা ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংকে সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কোন কোন পৌরবাসী বাধ্য হয়ে এই পানি পানসহ গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করেন বটে কিন্তু এর ফলে ডায়রিয়াসহ পেটেপীড়া, টাইফয়েড, জন্ডিস ইত্যাদি মারাত্মক রোগের আশংকা দেখা দিয়েছে। তা’ছাড়া এই ট্যাংক পরিস্কার করার মত প্রয়োজনীয় লোকবল পৌরসভাসহ বেসরকারিভাবে পাওয়া না যাওয়ায় ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ¡াসে দূষিত পানি শহরবাসীর জন্য আরেকটি বিপদের কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। পিরোজপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী রইস উদ্দিন জানান, এই সমস্যা জানিয়ে শত শত পৌরবাসী তাদের সাহায্য চেয়ে মোবাইল ফোনে এবং সরাসরি পৌর ভবনে এসে ধর্না দিচ্ছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তারা তেমন কোন সেবা দিতে পারছেন না।
এদিকে, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, কাউখালী, নেছারাবাদসহ উপজেলা শহরসমূহ থেকেও এরকম বিপদের খবর পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা শহরসহ অন্যান্য এলাকার অবস্থাও অনুরূপ। এসব শহরের দুই একটিতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা থাকলেও ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংক ময়লা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় তার ব্যবহার দূরূহ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও গভীর নলকূপ দিয়ে পানি উঠানো গেলেও তা সংরক্ষণের সময় দূষিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চল ও হাট-বাজারে সুপেয় পানির সংকট তীব্র। খাবার পানির উৎস পুকুর প্লাবিত হয়ে লোনা ও দূষিত পানিতে ভরে থাকায় গ্রামের মানুষের সুপেয় পানির সংকট প্রবল। গভীর ও অগভীর নলকূপ দিয়ে কোথাও কোথাও এ সংকট মোকাবেলা করার চেষ্টা চললেও জেলার অধিকাংশ দুর্গত এলাকার মানুষ বিপদের মধ্যে রয়েছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial