মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসপি পরীক্ষা দিল দুই ভাই
পিরোজপুরের কাউখালীতে মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা অংশ নিয়েছে দুই আপন ভাই। উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের মধ্য জোলাগাতি গ্রামের আবুল হোসেন মল্লিকের দুই ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম মল্লিক ও মো. আসাদ মল্লিক তাদের মায়ের লাশ ঘরে রেখে বৃহস্পতিবার নুরজাহান মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়র থেকে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী হিসেবে ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা দিয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে তাদের মা শাহানা রেগম হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে জানাজার শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী সিদ্দিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাহানা বেগম কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর সংবাদে ভেঙ্গে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ও আসাদ মল্লিক। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মায়ের লাশের পাশে বসে থাকে এ দুই ভাই। স্বজনেরা তাদের নানাভাবে মা হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেন। পরে স্বজনদের কথায় মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিতে যায় সাইফুল ইসলাম ও আসাদ মল্লিক। তাদের সঙ্গে এক স্বজনকে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পর স্বজনেরা তার মায়ের লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেন।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম ওই কেন্দ্রে ছুটে যান। তিনি সাইফুল ইসলাম ও আসাদ মল্লিক সান্ত¡না দেন। কেন্দ্রের বাইরে তাদের স্বজনের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট পূর্বে তারা বের হয়ে মায়ের জানাজার জন্য বাড়ীতে যান এবং দুপুর ২টায় জানাজার নামাজের পর মায়ের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
কেন্দ্র সচিব ভাÐারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহমুদ চৌধূরী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ও আসাদ মল্লিক মা হারানোর বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। তার কক্ষের পর্যবেক্ষকসহ আমি কেন্দ্রে তার খোঁজখবর রেখেছি। আমি কক্ষে গিয়ে তাদের খোঁজ নিয়েছি। সান্ত¡না দিয়েছি। পরীক্ষার কক্ষে মাঝে মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা। সহপাঠীরা তাদের সান্ত¡না দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদরে পরীক্ষা ভালো হয়েছে তাদের।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, তার মা তাকে অনেক ভালোবাসতেন। মা চাইতেন যেন সে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল করতে পারে। তাই মায়ের কথা ভেবেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তারা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ওই কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তাদের সান্ত¡না দিয়েছি। তাদের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
