বাঙালির মুক্তির পথেই হাঁটছেন শেখ হাসিনা
পথ যতই দূর্গম, দূর্বিসহ এবং দূর্ভাবনার হোক না কেন–যে পথে আছে বাঙ্গালির মুক্তি, সে পথেই হাঁটছেন শেখ হাসিনা ।
এ পথ পরিক্রমায় পথের পাশে -ঘিরে থাকা নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের কাছে মায়ের মমতা স্নেহ ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়ান- শেখ হাসিনা । শুধু বাঙ্গালি নয়, বাঙ্গালী- অবাঙ্গালী, কে মুসলিম, কে বৌদ্ধ, কে পাহাড়ী- কে সমতলবাসী, কে কাছের- কে দূরের, কোন আপণ পর নয় । সবাই তাঁর কাছে মানুষ । এক মহা মানবীয় গুনে গুনী- শেখ হাসিনা ।
সারাটি জীবন যিনি স্রোতের বিপরীতে হেঁটে হেঁটে আজ নিজ মহিমায় ভাস্বর – বিশ্বমায়ের আসনে অধিষ্ঠিত বাঙ্গালির অহংকার দেশরতœ শেখ হাসিনা। বঙ্গকন্যা থেকে বঙ্গজননী- সবার মা । ধরিএীর আদরের কন্যা থেকে মানবতার জননী মাদার অব হিউম্যানিটি ।
এও অনুভব করি— অত্যন্ত বর্ণিল সহজ সারল্যে ভরা শেখ হাসিনার জীবন। মেধা- মনন, কঠোর পরিশ্রম, দূর্জয় সাহস, অমিয় ধৈর্য,গভীরতম দেশপ্রেম ও মহান ত্যাগের আদর্শে গড়ে উঠছে তাঁর ব্যক্তিত্ব’ । অসাধারন আদর্শ, পোশাকে- আশাকে, চলনে- বলনে, জীবন যাএার কোথাও বিলাসিতা বা কৃএিমতার ছাপ নেই । এই মমতাময়ী কালজয়ী জননেএী- থেকে বিশ্বনেএী হওয়াটা মহান সৃষ্টিকর্তার অপার দয়া ও মানুষের গভীর অন্তরাত্মার নির্ভেজাল ভালোবাসাই বড় শক্তি। এক কথায় অসংখ্য গুনে গুনান্বীতা বিশ্বমানবতার মা জননেএী- শেখ হাসিনা। একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় কাজে নিষ্ঠাবান অন্যদিকে জনগনের আস্থা ও বিশ্বাসে- সততার মূর্ত প্রতীক।
৩০ জুলাই। ১৯৭৫ সালে ঢাকা ছাড়লেন শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানা। যাবেন জার্মান – স্বামী- ড. ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল । সেখান থেকে বাবা- মায়ের সাথে ১৩ আগস্ট কথা বলেন। এটাই ছিল বাবা – মায়ের সাথে শেখ হাসিনার শেষ কথা। এরপর সেই কলঙ্কিত ১৫ আগস্ট । সবচেয়ে বর্বরোচিত ঘৃণিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু- শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবার পরিজনদের নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকরা ।
তখনও তাঁরা জানতেন না- তাঁরা এতিম – অসহায়, বাবা- মা – ভাই রক্তের বাঁধননে বাঁধা পৃথিবীর বুকে কেহই বেঁচে নেই – । মহাসংকটে – চারিদিকে ঘোর অন্ধকার, নিরব – নির্বিকার এমনকি আশ্রয়হীন । এসময় এয়ার ইন্ডিয়ান একটি বিমানে করে ২৫ শে আগস্ট ৮টার দিকে দিল্লীর পালাম বিমান বন্দরে পৌছাল শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও ড. ওয়াজেদ মিয়া এবং তাদের দুই সন্তান। ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধান মন্ত্রীর বাস ভবনে- শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী শেখ হাসিনার পাশে বসে বললেন- তোমার একটি শিশু ছেলে ও মেয়ে রয়েছে- এখন থেকে- তোমার ছেলে তোমার বাবা এবং মেয়েকে তোমার মা হিসাবে ভাবতে হবে । গগণবিদারী বুক ফাঁটা বোবা কান্নায় ভেঙ্গে পরলেন, চোখের জলে ভাসলেন দু-বোন। বৃহৎহৃদয়ে আগলে শান্তনার ভাষায় চোখেরজল মোছাতে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বললেন-তোমার ছোটবোন ও তোমার স্বামী রয়েছেন তোমার সঙ্গে। এখন তোমার ছেলে মেয়ে ও বোনকে মানুষ করার ভার তোমাকেই নিতে হবে । কোনভাবেই ভেঙ্গে পড়লে চলবেনা। কঠোর কঠিন নিরাপওার বলয়ে শব্দকরে পর্যন্ত কাঁদতে পারলেন না পিছে আবার শত্রুরা কেউ টের না-পায় – দু বোন এখনও বেঁচে আছে। পৃথিবীর কেউ যেন টের না-পায় এরা বেঁচে আছে- কোথায় আছে এমন সংকটময় একমুহূর্ত অতিক্রম করলেন।
১৯৮১ সালের ঐতিহাসিক ১৭ মে। দখলদার জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে এলেন বাংলার ইতিহাসের ট্র্যাজেডি অন্তরে ধারণ করে শেখ হাসিনা। তিনি এলেন সেই ভূমিতে যেখানে নির্মম নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে । হত্যাকারী ও তাদের বংশধরেরা বহলতবিহতে রয়েছে রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তিনি ফিরে এলেন দীর্ঘ নির্বাসন থেকে। ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রæয়ারিতে আওয়ামীলীগের জাতীয় সম্মেলন অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের প্রতি আস্থা বিশ্বাসের চুড়ান্ত পর্যায় দলের ঐক্যের প্রতীক হিসাবে শেখ হাসিনাকে আওয়ামীলীগের সভানেএী করা হয় । সেদিনের সেই বঙ্গবন্ধু কন্যা দলের ঐক্যের প্রতীক থেকে আজ জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠছেন। আজ বাঙ্গালী- জাতির অগ্রগতির জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দরকার ।
বাংলাদেশে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্হায়ী শাসক। টানা তিন মেয়াদসহ তিনিপ্রায় ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন। এর মাঝেও যেখানে কলঙ্কিত বিশ্ব রাজনীতি – রাজনীতির সঙ্গে যখন দূর্নীতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে এর মাঝেও আশ্চর্য কয়েকজন শাসকের নাম উঠে এসেছে। বিশ্বরাজনীতি নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপলস এ্যান্ড পলিটিকস বিশ্বের ৫জন সরকার রাষ্ট্র প্রধানকে চিহ্নিত করেছেন, যাদের দুর্নীতি স্পর্শ করেনি। বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। উল্লেখ করার মত কোন সম্পদও নেই। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ এই পাঁচজন সরকার প্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্হানে আছেন বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর পুরস্কার প্রাপ্তি জাতিকে গর্বিত করেছে। তিনি যে একজন দূরদৃস্টি সম্পন্ন নেত্রী তার প্রমান তিনি রেখেছেন সেই ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। তাঁর পরিকল্পনা এবং দৃঢ় নেতৃত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল থেকে। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় ৫০ টিরও অধীক পুরস্কার, পদক, ডক্টরেট ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ডক্টরেট ডিগ্রীলাভ করেছেন ।
বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল আজ বাংলাদেশ । বঙ্গবন্ধু- কন্যা জননেএী- শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। শেখ হাসিনা এগিয়ে যাচ্ছেন আগামীর পথে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হয়ে স্মার্টবাংলাদেশ গড়তে । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে থুবড়ে পড়েছিল বাংলাদেশের মুখ। ৬ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় আলোর মশাল হাতে কান্ডারী হয়ে ফিরে এসেছিলেন জননেএী- শেখ হাসিনা । সেদিন বঙ্গবন্ধু- বিহীন বাংলাদেশ খুঁজে পেয়েছিল তারি রক্তে- মাংসে ও আদর্শে গড়া শেখ হাসিনা জাতির শেষ ভরসা । শক্ত হাতে শেখ হাসিনা ধরলেন নৌকার বৈঠা। সেদিন তিনি ফিরে না এলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হয়তো স্বপ্নেই থেকে যেত। বাংলাদেশের আজকের এ উন্নতি এ অগ্রগতি সুদুর পরাহত ছিল। শুধু উন্নয়ন নয় দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হতোনা, গণতন্ত্র আসতো না, বঙ্গবন্ধুর- হত্যা কান্ডের বিচার হতো না, যুদ্ধাপরাধীর বিচার থেকে যেত অসম্পন্ন। তারাই রাজত্ব করতো এই বাংলায় । প্রধান মন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা বাঙ্গালী- জাতিকে করেছেন কলঙ্কমুক্ত। দেশকে করেছেন বিশ্বের বুকে মর্যাদা বান ।
‘এই তো সেদিন ১২ ডিসেম্বর- ২০০৮ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তাদের নির্বচনী ইশতেহারে ঘোষনা করে যে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিনত হবে। একটি উন্নতদেশ, সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ, একটি ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠী, রূপান্তরিত উৎপাদন ব্যবস্হা, নতুন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি সব মিলিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট আধুনিক সমাজ গঠনের স্বপ্নই দেখিয়েছেন প্রধান মন্ত্রী- শেখ হাসিনা।
সত্যই ডিজিটাল বাংলাদেশ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান। আজ দেশে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক- দূরাবস্হা থেকে প্রযুক্তি ভিত্তিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিনত করা। প্রধান মন্ত্রী- শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন তারুণ্যের শক্তি অফুরান। তাই তিনি তরুন প্রজন্মের অহংকার আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ সজীব ওয়াজেদ জয়’ কে নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ এর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছেন তা আজ দৃশ্যমান। আজকের যাত্রা দ্রততম সময়ে স্মার্টবাংলাদেশ – তাও সফল হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন, প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ- বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। প্রতি বছর ১ জানুয়ারী’ বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরন, জীবন-মান বদল হওয়ায় গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যুহার কমানো, সকল ক্ষেএে নারী- শিক্ষার অগ্রগতি, বিভিন্ন ভাতা, বৃত্তি প্রদান, সংস্কৃতি সেবী, সাংবাদিকদের কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গৃহহীনদের গৃহদান, ভূমিহীনদের ভূমি, জায়গা আছে ঘর নাই তাদের ঘরের ব্যবস্হা সহ প্রান্তিক জনগনের আর্থিক সুরক্ষা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মান, উড়াল সড়ক, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু টানেল স্হাপনের মাধ্যমে জাতীয়ক্ষেএে সাফল্য অর্জিত হয়েছে ।
বঙ্গবন্ধু- ফাঁসির দড়িকেও ভয় করেন নাই। তাঁর জীবনে প্রথম কথা জনগন আর শেষ কথাও জনগণ। জনগণই ছিল অন্ত:প্রাণ। মানুষের দু:খ কষ্টে তাঁর মন কাঁদত। দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবেন, সোনার বাংলা গড়বেন, এটাই ছিল তাঁর জীবনের একমাএ ব্রত ।
পিতার মতোই গভীর দেশ প্রেম ও দূর্জয় সাহস, প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং সকল প্রতিকুলতার সঙ্গে লড়াই করে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছেন সামনে। লক্ষ্য স্থির বাংলার মানুষের অধীকার আদায়ের জন্য পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ পথ । ব্যক্তিগত লোভ লালসা নিয়ে নয় রাজনীতি করেন জাতির পিতার আদর্শ- নিয়ে। দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।
রাজনিতীর জীবন জুড়ে ঝঞ্জাবিক্ষুদ্ধতার ঝড়ো হাওয়া মোকাবিলায় ঘাতকের হত্যা প্রচেষ্টা পেছনে ফেলে পুরো জীবনই তাঁর নিবেদিত বাঙালি ও বাংলার মানুষের জন্য । আর এর জন্য তাঁকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে বহুবার। পিতামাতাসহ পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যার পর ঘাতকরা তাকেও বিনাশে কতশত অপচেষ্টা ও চক্রান্তই নাচালীয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি রয়েছেন এই বাংলার মানুষের অন্তরজুড়ে। আজ সারা বাংলার মানুষ গভীর মমত্ববোঁধে শ্রদ্ধায় – ভালোবাসায় তাঁকে আপ্লুত করে, শুভাশীষ জানায়। একুশের গ্রেনেড হামলায় যেমন শেখ হাসিনার জীবন বাঁচাতে কতিপয় নেতা-নেত্রী মানব ঢাল তৈরি করেছিলেন। আজ গোটা বাংলাদেশের জনগণ তার মানব ঢাল হয়ে তাকে সুরক্ষা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তারই ফলশ্রæতিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগ তথা নৌকার বিজয়ের মধ্য দিয়ে, যে আদর্শের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল সেই স্বাধীনতার ও বিজয়ের স্বাদ গ্রহন করবে সাধারণ মানুষ। জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন পূরণে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে সারথি হবে এই বাংলার মানুষ।
লেখক, সাংবাদিক , সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট
সঞ্জীব কুমার রায়
