মঠবাড়িয়া হাসপাতালে পথ্য ও খাদ্য সরবরাহ টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ : বিভাগীয় তদন্ত শুরু
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পথ্য ও খাদ্য সরবরাহ টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পথ্য ও খাদ্য সরবরাহ টেন্ডারের জন্য গত ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী টেন্ডার জমা দেবার শেষ তারিখ ছিল ৮ অক্টোবর। পরদিন ৯ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ে মূল্যায়ন কমিটি উপস্থিত সকল ঠিকাদারের সামনে টেন্ডারের সঙ্গে দাখিলকৃত সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর করার নিয়ম, যাতে শিডিউল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিবর্তণ না হয় তা যাচাই বাছাই করবেন। মূল্যায়ন কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা প্রশাসনের প্রতিনিধি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা থাকেন। অথচ নিয়মের বাইরে গিয়ে গত দুই মেয়াদে মূল কমিটি এড়িয়ে পকেট কমিটি দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেলিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম মিয়া এবং আরেক ঠিকাদার কামরুল আহমেদ।
টেন্ডারে কারচুপি করতেই পরিকল্পিতভাবে পত্রিকায় একরকম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিডিউলে ভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানদ্বয়। তাদের অভিযোগ, ২০২২-২৩ অর্থবছরের টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী গোলাম মোস্তফার মাধ্যমে স্থানীয় ঠিকাদার জাকির হোসেনকে তার ত্রæটিপূর্ণ কাগজপত্র থাকা স্বত্তে¡ও তাকে টেন্ডার পাইয়ে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এ ঘটনায় জড়িত থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলেও উল্লেখ রয়েছে অভিযোগে। সর্বনি¤œ দরদাতা সেলিম এন্টারপ্রাইজের কাগজপত্র এড়িয়ে জাকিরের সর্বোচ্চ দরের কাগজপত্র গ্রহণ করে কাজটি দেওয়াতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট টিকাদান প্রতিষ্ঠানদ্বয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরিশাল বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান সরেজমিনে তদন্ত করেছেন।
