প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম : ৩ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করে বিপাকে পড়েছে ৩ সন্তানের জননী জাহানুর (৫০) বেগম। মামলা দায়েরের পর যৌতুক লোভী স্বামী আ. হামিদ (৫৭) শালিশ ব্যবস্থার কথা বলে বাড়িতে ডেকে স্ত্রী জাহানুর বেগমকে এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করেছে। গত চার দিন ধরে গুরুতর জাহানুর বেগম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আহত জাহানুর বেগম স্বামী হামিদ ও দু’দেবরকে আসামী করে গত ১৮ অক্টোবর রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও গত তিন দিনেও থানা পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি।
থানায় লিখিত অভিযোগ ও আহত সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের সবুজ নগর এলাকার কাঞ্চন আলী হাওলাদারের ছেলে আ. হামিদ তার স্ত্রী তিন সন্তানের জননী জাহানুর বেগমকে যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছিল। এতে অতিষ্ট হয়ে গৃহবধূ জাহানুর স্বামীকে আসামী করে গত ১৭ অক্টোবর বিজ্ঞ মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৮ এর ৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (যার সিআর নং ৯২১/২০২৩)। মামলা করার পর ওই দিন দুপুরে বাদী জাহানুর ও স্বাক্ষীদের নিয়ে আদালত থেকে বের হবার পর ওৎ পেতে থাকা স্বামী আ. হামিদ মিমাংসার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে নিয়ে এসে ভাইদের সাথে নিয়ে স্ত্রীকে আদালতে মামলাই যখন করেছে তখন ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে, নইলে শেষ করে দিব বলে হুমকি দেয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর কথা কাটাকাটির একপর্যায় আ. হামিদ ও তার দু’ভাই ইসমাইল ও মালেক মিলে জাহানুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি কোপালে গুরুতর জখম হয়। এ সময় মাকে রক্ষা করতে এলে পিতা ও চাচার হামলায় অনার্স পড়–য়া মেয়ে মিম আক্তার (২০) আহত হয়।
আহত মিম জানায়, বাবা আ. হামিদ আমাকে ও মাকে মারধরের পর আমার মা, একমাত্র অসুস্থ্য ভাই ও আমাদের দু’বোনকে বাড়ি ছাড়া ও খুন খারাবি করারও হুমকি দিচ্ছে। ফলে তারা বসতবাড়িতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তারা যে কোন সময় বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে বলে মিম জানায়। আহত জাহানুরের ছোট ভাই মিজানুর রহমান খলিফা অভিযোগ করে বলেন, তার বোন জামাই আ. হামিদ দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তার বোনকে একতরফা তালাক দিয়ে বাড়ি ছাড়া করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রকমের পায়তারা চালাচ্ছে।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কামরুজ্জামান তালুকদার ভিকটিমের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনায় জড়িত আ. হামিদসহ অন্যদের আটক করার জন্য বসতবাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হামিদ ও তার ভাইয়েরা গা ডাকা দেয়ায় তাদের আটক করা যায়নি। যে কারনে মামলা করতে বিলম্ব হয়। তবে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আ. হামিদের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্ঠা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি ও তার মুঠো ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial