চৌকিদারের লাঠির আঘাতে কৃষক হাসপাতালে
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে মানিক হালদার নামে এক কৃষকের মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর ঘটনা ঘটিয়েছেন স্থানীয় চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) বিপুল হালদার।
বুধবার বিকেলে জলাবাড়ী ইউনিয়নের কামারকাঠি গ্রামে চৌকিদার বিপুল হালদার ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে মানিকের বসতঘরে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় মানিক ঘর থেকে বের হয়ে বাধা দিলে বিপুলের লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঘটনার পরপর স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার নেছারাবাদ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি মানিক হালদার অভিযোগ করে বলেন, বিপুল হালদার তাকে বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদ করতে নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেয়াসহ মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছিল। সর্বশেষ বিপুলের দায়ের করা একটি মামলার রায় নিয়ে বুধবার বিকেলে বাড়ী এসে ভাত খাচ্ছিলাম। এসময় বিপুল হালদার, চিত্ত হালদার, পিযুস হালদার ও তাদের তিন ছেলেসহ ভাড়াটে ৭/৯ জন লোক এসে আমার ঘরে ভাংচুর চালাচ্ছিল। আমি তাদের বাধা দিলে তারা আমাকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে বিপুল চৌকিদার লাঠি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। বিপুল মিথ্যা মামলায় পরাজিত হয়ে পরিকল্পনাপূর্বক আমার ঘরদুয়ার ভাংচুর করে আমাকে মেরেছে। বর্তমানে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তাই আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
স্থানীয় মহাসিন, নান্টু নামে দুই প্রতিবেশি জানান, বিপুল চৌকিদার খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। তিনি পারেনা এমন কোন কাজ নেই। কারো সাথে কিছু হলেই তিনি তার বিরুদ্ধে কখনো থানায় অভিযোগ কখনো আবার কোর্টে মামলা করেন। তার হামলার শিকার মানিক হালদার তার চাচাতো ভাই। মানিকের বসতভিটে দখলে নেয়ার জন্য তিনি লাগাতর মামলা দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ নিজের দায়ের করা মামলায় পরাজিত হয়ে বুধবার বিকেলে মানিক হালদারের বাড়িতে এসে হামলা করে ভাংচুর করে এবং মানিককে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তিনি চৌকিদার বিধায় তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ করেনা।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য চৌকিদার বিপুল হালদারের বাড়িতে গেলে তিনি বাড়ি থেকে সটকে পড়েন। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দূরে আছি পরে আপনাদের সাথে দেখা করব।
এলাকার ইউপি সদস্য মো. নুরুল আমীন লিটন জানান, মানিক এবং বিপুল চৌকিদার চাচাত ভাই। জমি নিয়ে তাদের বিরোধ চলমান। এনিয়ে আমরা কয়েকবার শালিসে বসেছিলাম। আমরা চেয়েছি মানিক অসহায় মানুষ। তিনি তার বাবার ভিটায় একটা ঘর তুলে থাকুক। কিন্তু বিপুল তা মানতে চাচ্ছে না। বিপুল বলে সে কোন জমি পাবেনা। এ নিয়ে তাদের বিরোধ চলমান।
