ঘুষ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
দলিলের নাম জারী (মিউটেশন) করার জন্য ঘুষের টাকা নেওয়ার পরিমান নির্ধারন করে দেওয়ার নির্দেশনার কথোপকথন (বক্তব্য) ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত পিরোজপুরে নাজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমি (এসিল্যান্ড) মো. মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্য তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার নাজিরপুরে এসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম হোসেন (কমিটি প্রধান), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাধবী রায় এবং সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) রিয়াজ মাহমুদ।
তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার দিনভর অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার-ভূমি (এসিল্যান্ড) মো. মাসুদুর রহমান, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার), উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. সঞ্জীব কুমার দাশ বলেন, তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা আমার কার্যালয়ে বসে প্রথম দিনের মতো তদন্ত কাজ পরিচালনা করেন। আমাকে তারা থাকতে বলেছিলেন মাত্র। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা।
তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ সেলিম হোসেন জানান, তদন্ত কাজ চলমান। এই মূহূর্তে কিছু বলা যাবে না। ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, নাজিরপুর উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে দলিল নাম জারী (মিউটেশন) করাবার জন্য ‘ক’ তফসিলের দলিল প্রতি ৬ হাজার টাকা এবং ‘খ’ তফসিলের নাম জারী করাতে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ঘুষ নেওয়ার নির্দেশনা দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমি (এসিল্যান্ড) মো. মাসুদুর রহমান। ঘুষ নেওয়া উক্ত টাকার ‘ক’ তফসিলের ৪ হাজার টাকা এবং ‘খ’ তফসিলের জন্য ১০ হাজার টাকা তাকে (এসিল্যান্ড) দেওয়ার জন্য বলা হয়। বাকী টাকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের নিতে বলা হয়। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সভায় এ নির্দেশনা দেন এসিল্যান্ড মো. মাসুদুর রহমান। সম্প্রতি ঐ সভায় এসিল্যান্ড ও তহসিলদারদের কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হয়।
