কাউখালীতে মাছে রং মেশানোর দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
পিরোজপুরের কাউখালীতে সামুদ্রিক মাছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রং মেশানোর অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার সকালে দক্ষিন বাজার এর মাছের বাজারে অভিযান চালিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. বায়েজিদুর রহমান এ জরিমানার আদেশ দেন।
এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান এবং কাউখালী পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
দন্ডাদেশপ্রাপ্ত বাগেরহাটের কচুয়ার ইয়াকুব আলীকে ৫ হাজার টাকা এবং কাউখালীর নরুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিকর রাসায়নিক রং মিশিয়ে মাছ রঙিন করে বিক্রি করা হচ্ছে এমন অভিযোগে দক্ষিন বাজারে অভিযান চালানো হয়। এসময় দুই ব্যবসায়ীকে সামুদ্রিক মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং মেশিয়ে বিক্রি করতে দেখা যায়। যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই অপরাধে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রন) ২০২০ আইনে দুই ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত ৩০ কেজি মাছ কাউখালীর বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরন করা হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
সম্প্রতি সরেজমিনে কাউখালীর মাছবাজারে রঙে চুবিয়ে মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যবসায়ী এ কাজ করে আসছেন। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে রং দেওয়া হয় বেশি। পাইকারি বাজার থেকে কেনার পর জাভা, ভোলা, তুলার ডাটি, রয়নাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রং মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখেন তারা। এরপর সেগুলো তুলে বিক্রির জন্য দোকানের ঝুড়িতে সাজানো হয়। এতে মাছে ফ্যাকাশে ভাব থাকে না, ‘তাজা’ মনে হয়। এছাড়া মাছের ফুলকাও দেখে বোঝা যায় না মাছ বাসি কি না।
