প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠিতে সড়ক মেরামতের কাজ : শেষ হতে না হতেই ধুয়ে দেবে একাকার !

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়ক মেরামত কাজ শেষ হওয়ার ১০ দিনের মাথায় বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে দেবে একাকার হয়ে গেছে। কার্পেটিং এর পীচ ধুয়ে বিলীন হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট-খাট যানবাহন চলাতো দুরের কথা পায়ে হেটে চলাও দূরহ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ওই কাজ করায় রাস্তাটির এমনই বেহাল হয়ে পড়েছে।
স্বরূপকাঠি কৃত্তিপাশা সড়কের ব্রিজ, কালভার্টসহ পুনঃনির্মান কাজ চলমান। কাজ করছেন এম এম বিল্ডার্স। ওই সড়কে স্বরূপকাঠি-জগন্নাথকাঠি নাম দিয়ে পুনরায় মেরামত করার প্রকল্প নেওয়া হয়। ওই সড়কের শুরুতেই স্বরূপকাঠি-জগন্নাথকাঠি চারশত মিটার অংশে ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তার মেরামত কাজের প্রাক্কলন নেওয়া হয়। কাজের মূল ঠিকাদার মাইনুদ্দীন বাশি। তার কাছ থেকে কিনে নিয়ে উপ-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেন শুভ নামে একজন। একটি চলমান কাজের ওপর মেরামত প্রকল্পের নামে জুন মাসের শেষ দিকে মেরামত কাজ সন্দেহজনক। ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের কিছু লোকদের যোগসাজসে রাস্তা মেরামতের নামে ২৬ লাখ টাকার হরিলুট হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির হোসেন বলেন, সড়ক বিভাগের ওই রাস্তাটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অবহেলিত ছিল। রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু হলে সকলে আনন্দ হয়েছিল। কিন্তু কাজ এতই নি¤œমানের হচ্ছিল যা দেখে এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে রাতের আধারে ঢালাই কাজ শুরু করে। এতে এলাকাবাসি বাঁধা দিলে তারা পরেরদিনে কোন রকমে তড়িঘরি করে পিচঢালাই কাজ শেষ করে রাতেই চলে যায় ঠিকাদারের লোকজন।
সাবেক পৌর মেয়র ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ বলেন, রাস্তার কাজ খুবই খারাপ হয়েছে। কাজ শেষের ১০ দিনের মাথায় রাস্তার পিচ উঠে বড়বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। পুরো কাজেই অনিয়ম হয়েছে বলে রাস্তাটির এমন বেহাল দশা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নেছারাবাদ উপজেলার দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার রতন মিস্ত্রী জানান, কাজের শুরুতে আমি দুইদিন উপস্থিত ছিলাম। পরে শরীর অসুস্থ থাকায় কাজের সাইডে আর যেতে পারিনি। পিরোজপুরের শুভ নামে এক ঠিকাদার ওই কাজ করেছে। এর বেশি কিছু আমি জানিনা।
পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলি মো. রেজাউল করিম জানান, চারশত মিটার কার্পেটিং রাস্তার রিপেয়ারিং এর জন্য সম্ভবত ২৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। মাইনুদ্দীন বাশি ওই কাজের মূল ঠিকাদার। তার কাছ থেকে সাব কন্টাক নিয়ে শুভ নামে এক লোক ওই কাজ করেছে। তিনি বলেন, কাজের সময় আমরা ছিলাম। কাজ করে কাজের বিল দেওয়া হয়ে গেছে। এখন কাজ যদি খারাপ হয় তাহলে প্রয়োজনে ঠিকাদার আবাার ওই কাজ করে দেবে।
নিম্মমানের কাজ করে বিল উঠিয়ে নেওয়ার পরও কিভাবে তারা পুনরায় কাজ করবে তার গ্যারান্টি কি জানতে চাইলে, তিনি বলেন- ঠিকাদারের সিকিউরিটি মানি জমা আছে। কাজ খারাপ হলে চাপ প্রয়োগ করে প্রয়োজনে তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া হবে।
স্বরূপকাঠি পৌর মেয়র গোলাম কবির জানান, কাজের মান খুবই খারাপ হচ্ছিল, বিষয়টি জানতে পেরে আমিসহ আমার কাউন্সিলরদের নিয়ে কাজের স্থানে গেলে উপ ঠিকাদার কাজের মান সঠিকভাবে করে দিবেন বলেন। কিন্তু তারা যেনতেন ভাবে কাজ করে রাতের আধারে পালিয়ে গেছে। কাজে চরম অনিয়ম হয়েছে। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই জানাবো।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial