প্রধান সূচি

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন

পিরোজপুর সেজেছে বর্ণিল সাজে ॥ পালিত হবে তিন দিনব্যাপী ‘সমৃদ্ধির উৎসব’

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহুর্তের স্বাক্ষী হতে পিরোজপুরে পালন করা হবে তিন দিনব্যাপী ‘সমৃদ্ধির উৎসব’। ২৫ জুন থেকে ২৭ জুন এ তিন দিন জুড়ে পিরোজপুরে জেলা প্রসাশনের উদ্যোগে ‘সমৃদ্ধির উৎসব’ পালনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
২৫ জুন সকাল সাড়ে ৮টায় সিও অফিস মোড়ের বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে আনন্দ র‌্যালী বের হয়ে জেলা স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হবে। র‌্যালী শেষে স্টেডিয়ামে বিশাল পর্দায় দেখানো হবে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পদ্মা সেতুর উদোভনী অনুষ্ঠান। পরে পিরোজপুর থেকে বেলুন ও পায়রা উড়ানো হবে। দুপুর ১২ টায় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা ৭টায় বর্ণিল আতশবাজি প্রদর্শিত হবে।
২৬ ও ২৭ জুন জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
এদিকে, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে পিরোজপুর সেজেছে বর্ণিল সাজে। জেলার গুরুত্বপূর্ন সড়কগুলোতে লাগানো হয়েছে পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত রং-বেরং এর ফেষ্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড। সড়কে সড়কে করা হয়েছে তোরণ ও আলোকসজ্জা। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, তথ্য অফিসসহ বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে এসব বিলবোর্ড, ফেষ্টুন, তোড়ণ ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিন দিনের সমৃদ্ধির উৎসবের লক্ষে জেলা স্টেডিয়ামে তৈরী করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল।


পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতু বাঙ্গালী জাতির যেমন স্বপ্নের সেতু, তেমনি গৌরবেরও। দেশের নিজস্ব অর্থায়নে এতো বড় একটা সেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করতে পারবেন সেটা বিশ্বের কাছেও ছিল বিষ্ময়। আর সেই বিষ্ময়কর অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মাহেন্দক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে পিরোজপুরে ‘সমৃদ্ধির উৎসব’ নামে তিন দিনের কর্মসূচি পালন করা হবে।
এদিকে, পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন মহারাজের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের ১৫ সহস্রাধিক মানুষ সমাবেশে যোগ দিতে লঞ্চ যোগে পিরোজপুর ছেড়ে গিয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৪টায় কীর্তনখোলা-১০, যুবরাজ-৭, সুরভী-৯, পারাবত-৮, মর্নিংসান-৯ ও ঈগল-৮ লঞ্চযোগে তারা রওয়ানা হয়েছেন। ইন্দুরকানী, ভান্ডারিয়ার চরখালী, পিরোজপুরের হুলারহাট, কাউখালী এবং মঠাবড়িয়ার বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট থেকে এসব লঞ্চ ছেড়ে যায় কাঠলবাড়ি ফেরীঘাটের উদ্দেশ্যে।


জানা গেছে, ভান্ডারিয়া উপজেলার লোকজন চরখালী লঞ্চ ঘাট থেকে কীর্তনখোলা-১০ ও যুবরাজ-৭ লঞ্চে, মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ষ্টিমার ঘাট থেকে সুরভী-৯ লঞ্চে, ইন্দুরকানী উপজেলার ইন্দুরকানী লঞ্চ ঘাট থেকে পারাবত-৮ লঞ্চে এবং কাউখালী উপজেলার লোহজন কাউখালী লঞ্চঘাট থেকে মর্নিংসান-৯ লঞ্চে উঠেছে।
এছাড়া হুলারহাট বন্দর লঞ্চ ঘাট থেকে ছেড়ে গেছে ঈগল-৮ লঞ্চ। এ লঞ্চে পিরোজপুর সদর উপজেলা, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার লোকজন উঠেছে। লঞ্চগুলো সন্ধ্যায় কাউখালী উপজেলার আমরাজুরী ফেরিঘাটে একত্রিত হয়ে সেখানে আতশবাজি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরণের আনন্দ-উৎসব সম্পন্ন করে রাত ৮টায় একযোগে লঞ্চগুলো কাঠালবাড়ী ঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবে। লঞ্চগুলো ২৪ জুন রাতে কাঠালবাড়ী ফেরিঘাটে পৌঁছে সেখানে অবস্থান করবে এবং ২৫ জুন সকাল ৮টায় নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগদান করবে।
উল্লেখ্য, স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকা রুটে চলাচলকারী ৬টি বড় দ্বোতলা লঞ্চ ভাড়া এবং ১৫ হাজার নেতাকর্মীর চার বেলা খাবারসহ যাবতীয় ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন মো. মহিউদ্দিন মহারাজ।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন মহারাজ বলেন, অনেক বাঁধা, বিপত্তি ও নান ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। এটি দেশবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়ও। আর এ পদ্মা সেতুর ফলে পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিল্প-কলকারখানার ও ব্যবসা বানিজ্যের প্রসারসহ সর্বক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন হবে। তাই ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ ও অনুষ্ঠানমালায় দলীয় নেতা-কর্মীসহ পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার ১৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial