স্বরূপকাঠীতে রাতের আধারে সাবেক এমপি সাধনা হালদারের জমি দখল
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় রাতের আধারে সাবেক এমপি সাধনা হালদারের জমি দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের বাশতলা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। উপজেলার বাশতলা গ্রামের জয়দেব হালদারের নেতৃত্বে পার্শবর্তী নাজিরপুর উপজেলার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে ৫০/৬০ জনের দুর্বৃত্ত দল ওই ভূমিতে থাকা একটি ঘর অপসারণ করে সেখানে নতুন ঘর তুলে বেড়া দিয়ে দখলে নিয়েছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, সাবেক এমপি সাধনা হালদার দৈহারী মৌজার এস এ ১৯২ খতিয়ানের ৪৩২, ৪৪৪, ৪৬৪নং দাগের ২৫ শতাংশ জমি গত ৭/১০/১৯৮২ সালে ৩৪৪০নং দলিল মুলে খরিদ করেন। যা বিএস ১২৯৮নং খতিয়ানের ১১৪২ নং দাগের ২৪ শতক জমি সাবেক এমপি সাধনা হালদার তার নিজ নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরে সাধননা হালদার ওই জমি থেকে .০৭ শতক জমি বাশতলা গ্রামের গৌরাঙ্গ লাল বড়ালের ছেলে সুকদেব বড়ালের কাছে বিক্রি করে ১ ডিসেম্বর বায়নাপত্র দলিল স্বাক্ষর করে দেন। সুকদেব সেই মোতাবেক ওই ভূমিতে একখানা দোকান ঘর তুলেন। পরবর্তীতে একই গ্রামের জনার্ধন হালদারের ছেলে জয়দেব হালদার ওই জমির দাবী করে আসছেন। এ নিয়ে থানা পুলিশে অভিযোগও হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শালিশ বৈঠকও হয়। শালিশ শেষ না হতেই রাতের আঁধারে জমি দখলে নেয় জয়দেব। এ বিষয়ে রবিবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জমি দখলে নেওয়া পক্ষ জয়দেব হালদার বলেন, এ জমির সব দলিল তাদের পিতা জনার্ধন হালদারের কাছে জমা দিয়ে সাধনা হালদারের ভাই উজ্জল হালদার তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে বায়না স্বরূপ রেপ কাগজে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহারুল ইসলাম বলেন, যেখানে শালিশ বৈঠক চলমান সেখানে এহেন কর্মকান্ড কোন অবস্থাতেই ঠিক নয়। তিনি বলেন, সুকদেব সাবেক এমপি সাধনা হালদারের বায়নাপত্র দেখিয়েছেন। অপর পক্ষ জয়দের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা সাধনা হালদারের ভাই উজ্জল হালদারের কাছ থেকে মৌখিকভাবে ওই জমির বায়না করেছেন বলে জানিয়েছেন। কোন সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই রাতের আধারে এভাবে দখল কর্মকান্ড করা ঠিক হয়নি।
নেছারাবাদ থানার ওসি আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এ জমির বিষয়ে আগেও একটি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। জমি জমার ব্যাপার আদালতেই ফয়সালা হওয়া ভাল। আমি আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
