বাগেরহাটে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা ভোটারদের
বাগেরহাটে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা বিরাজ করছে। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। তবে তৃর্ণমূল পর্যায়ের সাধারণ ভোটাররা স্বতন্ত্র বা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হামলা অফিস ভাংচুর, পোষ্টার ছেড়া এমনকি সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেয়া প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের দিন জেলা জুড়ে প্রতিটি কেন্দ্র দখল করে রাখা হবে এ ধরণের মানষিকতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে প্রকাশ্য মহড়ায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা নৌকা প্রতিক পেলেও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের সাধারণ ভোটাররা ঝুকছেন একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর দিকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ভোটার বলেন, নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, প্রার্থীরা ততই শক্ত অবস্থান নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে এমন অবস্থা যে, দলীয় প্রতিক পেয়েছি আমিই চেয়ারম্যান, আর আমিই দলের ত্যাগি নেতা, দলের জন্য অনেক কিছু করেছি। এই কারণেই দিনদিন বাড়ছে তুমুল উত্তেজনা ও সহিংসতা ঘটনা ঘটার আশঙ্কা।
করোনাভাইসের কারণে দুই দফা পিছিয়ে (স্থগিত) থাকা বাগেরহাটের ৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে জেলার ৯টি উপজেলার ৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রথমধাপে জেলার ৬৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জেলার প্রতিটি উপজেলার নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানোর পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিত লক্ষ্য করা গেছে। এরই মধ্যে ৬৫টি ইউনিয়নের ৫৯৯টি কেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ হিবেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
নির্বাচনে ১০০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৩৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া জেলার কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য পদগুলো নির্বাচিত হওয়ায় ওই ইউনিয়নে ভোট হচ্ছে না।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারাজি বেনজির আহমেদ বলেন, বাগেরহাট জেলায় ৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন ১০০ জন, সদস্য প্রার্থী আছেন দুই হাজার ২৫৫ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রার্থী রয়েছেন ৭৬৮ জন। নির্বাচনে ৫৯৯টি কেন্দ্রে বুথ সংখ্যা দুই হাজার ৮১৯টি। নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলায় ৩ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ৩টি টহল টিম, ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলায় ২৫ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর ২২ জন করে সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
