প্রকাশ্যে ভোটদান ও ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার হুমকি
শরণখোলায় নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
প্রকাশ্যে ভোট দেওয়া, ভোট কেন্দ্রে না আসার হুমকি ও নেতা-কর্মীসহ নিজের পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ-র্যাব মোতায়েনের দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাগেরহাটের শরণখোলার উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মহিম আকন।
শনিবার দুপুরে শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি। আমার নির্বাচনী কর্মী-সমর্থকরা প্রচার প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করতে গেলে নৌকা প্রতিকের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মাইনুল হোসেন টিপুর কর্মী-সমর্থকরা মারপিট, ভয়ভীতিসহ ভোট কেন্দ্রে না আসার হুমকি ধামকি দিয়ে চলছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে গেলে প্রকাশ্যে ভোট দিতে হবে, নইলে এলাকা ছাড়ার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছে। আমার কর্মীরা পোষ্টার টানাতে গেলে তাদেরকে গাছের সাথে বেঁধে রাখার হুমকি দিচ্ছে।
আমার এজেন্টসহ কর্মী সমর্থকদের উপর দিনদিন হুমকি ধামকির পরিমান বেড়েই চলছে। কেউ যাতে আমার এজেন্ট না হয় সেজন্য তাদের বাড়ি গিয়েও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আমার কর্মী সমর্থকরসহ আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশংকা থাকায় ইতিমধ্যে স্বরাষ্টমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিআইজি খুলনা, র্যাব-৬, পুলিশ সুপার বাগেরহাট, জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শরণখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মঈনুল হোসেন টিপু জানান, এসব অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। বরং উক্ত প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা আমার কর্মীদের উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
ধাণসাগর ইউনিয়নের রির্টার্নি অফিসার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, উভয় প্রার্থী একে অন্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শরণখোলা থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া মহিম আকনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাতুনে জান্নাত বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে মহিম আকনের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই ওই এলাকায় আমি নিজেই পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছি। পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নজরদারী বাড়ানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
