প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ ॥ কাজ না করে বিল উত্তোলনের পায়তারা

পিরোজপুরের  নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জুন মাসের বরাদ্দের টাকা দিয়ে ছোট খাট মেরামত ও কেনাকাটার কাজ এখনও সম্পন্ন করা হয়নি।

তবে জুন ফাইনালের কারণে ভুয়া বিল ভাউচার জমা দিয়ে ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেরামত ও স্লিপ প্রকল্পের প্রায় আড়াই কোটি টাকা স্থানান্তর করে শিক্ষা অফিসারের অ্যাকাউন্টে রাখা হয়। কিন্তু নতুন অর্থ বছরের প্রায় দুই মাস শেষ হলেও কাজে হাত দেয়নি বেশ কিছু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমন কিছু প্রধান শিক্ষক আছেন যারা উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়টি সভাপতি ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির অপরাপর সদস্যকে অবহিত করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজেদের পকেট থেকে আগাম টাকা খরচ করে কাজ বাস্তবায়নের অক্ষমতার অজুহাত তুলে কালক্ষেপন করার পিছনে ভিন্ন কারণ রয়েছে বলে মনে করেন কমিটির সদস্যরা। করোনার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে কিছু কিছু প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করতে এমনটা করেন বলে সদস্যদের অভিযোগ।

এদিকে ২/৩ বছরের ব্যবধানে দৃষ্টি নন্দন সাইক্লোন সেল্টারসহ নতুন নতুন ভবন নির্মান করা হয়েছে এমন বিদ্যালয়ের মেরামত কাজের জন্য টাকা বরাদ্দের বিষয় নিয়ে উপজেলা পরিষদের সভায় প্রশ্ন তুলেছেন বেশ কয়েকজন সদস্য।

গত বছর উদ্বোধন করা তিন তলা বিশিষ্ট দৃষ্টি নন্দন কুহুদাসকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত কাজের জন্য এ বছর দুইলাখ টাকা বরাদ্ধ এসেছে। অথচ একই উপজেলায় ঝুুুঁকিপূূর্ন ভবন বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, উপজেলার ১৭০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্লিপ কর্মসূচি বাবদ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা করে  বিদ্যালয় ক্যাটাগরি বিবেচনায়) বরাদ্দ আসে। এরমধ্যে স্লিপ প্রোগ্রামের অর্ধেক টাকা কোভিট-১৯ মোকাবেলার জন্য গত মার্চ মাসে উত্তোলন করেন প্রধান শিক্ষকরা। এছাড়াও ৫৫টি বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য দুই লাখ টাকা করে এবং ১০৮টি বিদ্যালয়ের জন্য রুটিন মেরামত বাবদ ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ এসেছে গত জুন মাসে। ক্ষুদ্র মেরামতের ৫৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে কুহুদাসকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃষ্টি নন্দন তিনতলা বিশিষ্ট ভবনসহ এমন বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের সাইক্লোন সেল্টার এবং নতুন ভবন যা মাত্র ২/৩ বছরের মধ্যে নির্মান করা হয়েছে। সে সব স্কুল ভবনের মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অথচ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় জড়াজীর্ন অবস্থায় থাকলেও সেখানে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ পায়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, পশ্চিম জৌসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাড়াবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, থালিয়া (নব জা: ক:) প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১৫টি বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ এখনও শুরু করেনি।

এদিকে, পূর্ব ভরতকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাটা দৈহারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৈহারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলেডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৬০টিরও বেশী বিদ্যালয়ের রুটিন মেরামতের কাজ না করেই বরাদ্দের টাকা পাওয়ার জন্য শিক্ষা অফিসে ধর্ণা দিচ্ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইউসুফ হোসেন বলেন, কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারদের এমন প্রত্যায়ন পেলে ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রত্যায়ন দিলে রুটিন মেরামত ও স্লিপের বিল প্রদান করা হয়।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial