হ্যান্ডমাইক হাতে অভিরাম ছুটে চলছেন স্বরূপকাঠীর ইউএনও
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় সাধারণ মানুষকে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাইক হাতে অভিরাম ছুটে চলছেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসেন।
করোনাকালীন সকলের মধ্য সচেতনতা বাড়াতে তার ছুটে চলা যেন বিরতিহীন। সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে স্বরূপকাঠি পৌর শহরের অলিগলি থেকে ইউনিয়নের সর্বত্রই চলছে তার ছুটে চলা। করোনায় উপজেলায় মানুষের মধ্য সচেতনতা বাড়াতে হ্যান্ড মাইক হাতে কখনো দেখা যায় তাকে হাটে বাজারে, বাসষ্ট্যান্ডে কখনো বা খেয়াঘাটে। কাউকে দিচ্ছেন খাবার, কাউকে পড়িয়ে দিচ্ছেন মাস্ক। কখনো আবার কল পেয়ে খাবার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন অভাবী লোকের দোঁড় গোড়ায়। করোনার থেকে বাঁচতে বিধিনিষেধ পালনে আইন প্রয়োগে কখনো হচ্ছেন বিনয়ী, প্রয়োজনে দিচ্ছেন দন্ড। লকডাউন বাস্তবায়নে এমনিভাবেই দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে তাকে। করোনা বিধিনিষেধের দায়িত্ব পালনে তার এমন সাহসিকতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে এখন সর্বজনের কাছে।
স্বরূপকাঠি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্যক্তি বলেন, ইউএনও স্যার তিনি নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে আমাদেরকে সুরক্ষা রাখার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে অনেকে নানান মন্তব্য করেন। দয়া করে যদি আমরা বোঝার চেষ্টা করি। এই মানুষটি একটু হাল ছেড়ে দিলে এখানকার আমার আপনার চিকিৎসা তো দুরে থাক, জানাযার লোকও পাওয়া যাবেনা বলে আমি মনে করি।
উপজেলার দক্ষিণ কামারকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. রফিক বলেন, এই মহামারি করোনাকালীন সময়ে ইউএনও স্যারের দায়িত্ব পালন দেখে আমি অভিভূত। সবার মাঝে স্বাস্থ্যবিধি পালনে হ্যান্ড মাইক হাতে তার অভিরাম ছুটে চলা নি:সন্দেহে প্রশংসা রাখে।
নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, এই মহামারি করোনাকালীন সময়ে ইউএনও মহোদয় খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন। নি:সন্দেহে করোকালীন তার ক্লান্তহীন দায়িত্ব প্রশংসার দাবিদার। নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা না ভেবে প্রতিনিয়ত মানুষের মধ্য সচেতনতা সৃষ্টিতে উপজেলার সর্বত্র ছুটে চলছেন। তিনি আরো বলেন ইউএনও যদি দায়িত্ব পালনে একটু ঢিল দেন তাহলে আমার মনে হয় মানুষকে বিধিনিষেধ পালন করানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
জানাযায়, মহামারি কোভিড-১৯ চলাকালিন অবস্থায় ২০২০ সালের ১৯ মে নেছারাবাদ উপজেলায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. মোশারফ হোসেন। চেয়ারে বসেই তার যুদ্ধ শুরু হয় করোনার বিরুদ্ধে। মাস্ক ছাড়া কাউকে দেখলেই জানান দেন সচেতনতার কথা। প্রয়োজনে হুশিয়ারী। প্রতিনিয়ত প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই গাড়ি নিয়ে কখনো বা পায়ে হেটে বের হন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কখনো হচ্ছেন কঠোর কখনো বিনয়ী। নিজের বা পরিবারের কথা না ভেবে এ অকুতভয় করোনা যোদ্ধা করোনার বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। এই অবিরত দায়িত্ব পালনে জন্য তিনি গত ১৬ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে আইসোলেশনে ছিলেন। পুনরায় টেষ্ট করিয়ে শরীরে করোনা নেগেটিভ আসা মাত্রই উপজেলাবাসীকে রক্ষার জন্য আবার নেমে নেমে পড়েন করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারফ হোসেন বলেন, যা করছি এটা আমার দায়িত্ব। কাজকে সর্বদা নিজের সঙ্গি মনে করে মনে প্রাণে দায়িত্ব পালন করছি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে কখনো নিজের বা নিজের পরিবারের কথা ভাবিনা। এখানে দেশকে ভাবাটাই প্রধান কাজ।
