প্রধান সূচি

পাইকগাছায় পুকুরে মিললো শিশু লাশ

পাইকগাছায় গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় শ্রাবন নামে ৩য় শ্রেণির এক শিশু’র লাশ মিললো পুকুরে। ঘটনাটি ঘটেছে নিহত শ্রাবনের নানার বাড়ী গড়ইখালীতে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এএসপি (ডি সার্কেল) মো. হুমায়ুন কবির এবং পাইকগাছা থানার ওসি মো. এজাজ শফী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ নিহত শিশুর মা, সৎ পিতা, মামা-মামী ও নানাকে থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গড়ইখালী বাজারের বাসিন্দা ও স্থানীয় পোষ্ট অফিসের ডাক পিয়ন সাঈদুর গাইনের মেয়ে রত্মার সাথে বিগত ২০১১ সালে ঝিনাইদহের মাসুদ রানার সাথে বিবাহ হয়। বিয়ের পর এ দম্প্রতির এক শিশু জন্ম গ্রহন করে, নাম শ্রাবন। ৩য় শ্রেণির ছাত্র শ্রাবন নানার বাড়ীতে মায়ের সাথে থাকতো।
জানা গেছে, বিগত সাড়ে ৩ বছর আগে মাসুদের সাথে রত্মার ছাড়াছাড়ি হবার পর গড়ইখালীর মৃত. খানজাহান সরদারের ছেলে আমিনের সাথে রত্মা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এটা ছিল রত্মার তৃতীয় বিবাহ।
শ্রাবনের মা রত্মা জানান, বুধবার দুপুরে পাশের বাড়ীতে আমার ছেলেসহ স্বপরিবারে দাওয়াত খেতে যাই। এরপর বৃষ্টি থামার পর পরই আছরের আজানের পুর্ব মুহুর্তে শ্রাবন বাজরে খেলতে যায়। এ সময় রত্মা ও তার বাবাসহ বর্তমান স্বামী আমিন গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদস্থ নির্মাণাধীন নতুন বাড়ীর কাজ দেখভালে যান। রত্মার মা যায় হাঁস খুঁজতে। সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসলেও শ্রাবনের সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় মসজিদের হুজুর মাইকে হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেন। খোঁজাখুঁজি চলে চারিদিকে।
এদিকে, বারান্দায় ১টি সান্ডেল বসতঘরে আর ১টি শ্রাবনের নতুন স্যান্ডেল দেখে নানীর সন্দেহ বেড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত ৮টার দিকে বাড়ী সংলগ্ন পানিভরা পুকুর থেকে এ শিশুর গলায় কালো ফিতার ফাঁস দেওয়া মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে ঐ রাতেই থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন ঘটনার সময় বিদুৎ না থাকার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা শ্রাবনকে মেরে ফেলে পুকুরে লাশ ফেলে দিতে পারে!
ওসি মো. এজাজ শফী ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা বলে জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই বোঝা যাবে এটা কোন ধরণের মৃত্যু।
এএসপি (ডি সার্কেল) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ইতোমধ্যে নিহত শিশুর মামা-মামী বাদশা গাইন দম্প্রতি, সৎ পিতা আমিন সরদার ও মা রত্মাকে জিজ্ঞাসাবদের জন্য থানা হেফজতে নেওয়া হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial